রাজপথে ‘ককরোচ পার্টি’, সরব ভারতের তরুণরা
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যুবসমাজকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) বাতিলের সিদ্ধান্ত যেন তাদের ক্ষোভে আগুন জ্বালায়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা দীপকের দাবি, “ভারতের তরুণরা মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনা থেকে হারিয়ে গেছে। কেউ তাদের কথা শুনছে না”।
রাজপথে ‘তেলাপোকা’
শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই আন্দোলন। গত ৬ জুন নয়াদিল্লিতে আয়োজিত প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশে হাজার হাজার যুবক তেলাপোকার মুখোশ পরে অংশ নেয়। তাদের দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে।
এই সমাবেশে অংশ নেন দীপক নিজেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে তিনি বলেন, “এই প্রতিবাদ দেশের ভবিষ্যতের জন্য, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য”।
প্রতিরোধ ও সমালোচনা
এই আন্দোলন যেমন সমর্থন পেয়েছে, তেমনি বাধার সম্মুখীনও হয়েছে। দলটির ওয়েবসাইট ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করা হয়েছে । প্রতিষ্ঠাতা দীপকের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
একটি সমাবেশে দীপককে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা তিনি ভারতীয় জনসংঘ (আরএসএস) এর সাথে যুক্তদের কাজ বলে অভিযোগ করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, এই দলটি ভারতে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা
এখন পর্যন্ত দলটিকে আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করা হয়নি। দীপক নিজেও জানিয়েছেন, এটি এখন পর্যন্ত একটি চাপগোষ্ঠী হিসেবে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ভারতের রাজনৈতিক অভিব্যক্তির একটি নতুন উদাহরণ।
বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর যুব আন্দোলনের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। যেমন বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বা নেপালের সম্প্রতি প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে ককরোচ জানতা পার্টির প্রতিবাদের ভাষা ও মাধ্যমের মিল রয়েছে । তবে দীপক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথেই প্রতিবাদ করবেন ।
‘ককরোচ জানতা পার্টি’ ভারতের যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও রাজনৈতিক সচেতনতারই প্রতিফলন। একটি অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্যকে কীভাবে শক্তিশালী আন্দোলনে রূপান্তর করা যায়, তারই উদাহরণ এই আন্দোলন। রাজপথে নেমে আসায় এই আন্দোলন আরও গতি পাবে নাকি প্রতিরোধের মুখে থমকে যাবে, তা এখন সময়ের সাক্ষী।