×
×
Tuesday, 28 July, 2026, 4:26 pm


আল্লাহর সন্তুষ্টির পথঃ অভাবি, দরিদ্র ও মিসকিনদের মাঝে খাদ্য দান

মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ইসলাম এই দায়িত্বকে শুধু মানবিকতা হিসেবে নয়, বরং ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়—অভাবগ্রস্ত, দরিদ্র ও মিসকিনদের খাদ্য দান করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মহান মাধ্যম।

খাদ্য দান: ঈমানের পরিচয়

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকিন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।”
— (সূরা আল ইনসান, আয়াত ৮)

এই আয়াতে স্পষ্ট হয় যে, প্রকৃত মুমিনরা নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়। তারা দান করে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য—কোন প্রতিদান বা প্রশংসার প্রত্যাশা ছাড়াই।

দরিদ্রকে খাদ্য না দেওয়া: কঠোর সতর্কবার্তা

কুরআন শুধু উৎসাহই দেয় না, বরং অবহেলার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কতা প্রদান করে।

আল্লাহ বলেন—
“তোমরা মিসকিনকে খাদ্য দানে উৎসাহিত করো না।” — (সূরা মাউন, আয়াত ৩)

এখানে বোঝানো হয়েছে, যারা সমাজের দরিদ্রদের কথা ভুলে যায়, তাদের ঈমান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। শুধু নিজে দান করাই নয়, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

দান: আল্লাহর পথে বিনিয়োগ

কুরআনে দানকে একটি চমৎকার উপমার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—

আল্লাহ বলেন—
“যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়; প্রতিটি শীষে থাকে একশ’ দানা।” — (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৬১)

এই আয়াত প্রমাণ করে—আল্লাহর পথে খাদ্য দান কখনো ক্ষতি নয়; বরং তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এটি শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও অশেষ প্রতিদান বয়ে আনে।

সৎকর্মের আসল অর্থ

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“সৎকর্ম শুধু পূর্ব বা পশ্চিমে মুখ ফিরানো নয়; বরং সৎকর্ম হলো… নিজের সম্পদ ব্যয় করা—আত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকিন ও অভাবগ্রস্তদের জন্য।” — (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৭৭)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, প্রকৃত নেক কাজ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বাস্তব জীবনে মানুষের উপকারে আসে—বিশেষ করে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে আহার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়

খাদ্য দান এমন একটি ইবাদত, যা সরাসরি মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ খুলে দেয়।

আল্লাহ বলেন—
“তোমরা যা কিছু উত্তম জিনিস ব্যয় করবে, তা আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন।” — (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৩)

অর্থাৎ, মানুষের চোখে না পড়লেও আল্লাহ প্রতিটি দান, প্রতিটি সদয় আচরণ সম্পর্কে অবগত এবং তিনি এর প্রতিদান দেবেন।

অভাবি, দরিদ্র ও মিসকিনদের খাদ্য দান করা কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান সুযোগ। এর মাধ্যমে একজন মুমিন তার ঈমানের প্রমাণ দেয়, সমাজে ভারসাম্য আনে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।

আজকের পৃথিবীতে যেখানে বৈষম্য ও অভাব ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে কুরআনের এই নির্দেশনা আমাদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা। যদি আমরা আন্তরিকভাবে এই শিক্ষা বাস্তবায়ন করি, তবে শুধু একজন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই নয়, বরং আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টিও অর্জন করতে পারবো।

আরও