×
×
Wednesday, 29 July, 2026, 7:08 pm


ঈদের সকালঃ সুষম খাবারের মাধ্যমে সুস্থ ও উদ্যমী দিন শুরু করুন

ঈদুল ফিতর শুধু আনন্দেরই নয়, বরং এক মাস সিয়াম সাধনার পর শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তবে দীর্ঘ এক মাস পর হঠাৎ করেই অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভারী খাবার গ্রহণ করলে শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) ও বদহজমের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পুষ্টিবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রোজা ভাঙার সময় হালকা ও সুষম খাবার দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। তাই ঈদের সকালটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে খাবারের তালিকায় থাকতে পারে কিছু সচেতন পরিবর্তন।

ধীরে ধীরে শুরু করুন, ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

রোজা রাখার সময় পাকস্থলী সংকুচিত হয়ে থাকে। ঈদের সকালে খালি পেটে অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ করলে তা হজমে চাপ সৃষ্টি করে। হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর মতে, উপবাস ভাঙার সময় প্রথমে সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করাই উত্তম। নামাজে যাওয়ার আগে কয়েকটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা মৌসুমি ফল খাওয়ার মাধ্যমে শুরু করা ভালো। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া সুস্থ থাকে।

মিষ্টির পরিমাণে রাখুন নিয়ন্ত্রণ

ঈদ মানেই সেমাই, পিঠা ও মিষ্টান্ন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুস্থ থাকতে মুক্ত চিনি (ফ্রি সুগার) গ্রহণের পরিমাণ দৈনিক মোট শক্তির ১০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। চিনি বা ঘন দুধে তৈরি সেমাইয়ের পরিবর্তে, কম চিনিযুক্ত বা খেজুরের রস দিয়ে তৈরি মিষ্টান্ন বেছে নেওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই বিষয়টি আরও বেশি জরুরি, কারণ সকালে অতিরিক্ত মিষ্টি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রোটিন যোগ করুন, শক্তি ধরে রাখুন

শুধু কার্বোহাইড্রেট (মিষ্টি ও সেমাই) নির্ভর খাবার শরীরে দ্রুত শক্তি জোগালেও তা ক্ষণস্থায়ী। এতে দ্রুত আবার ক্ষুধা পায় এবং ক্লান্তি আসে। সকালের খাবারে ডিম, দই বা অল্প পরিমাণ মুরগির মাংসের মতো প্রোটিন যুক্ত করা ভালো। প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, ফলে সারাদিন শরীরে শক্তির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্যাচুরেটেড ফ্যাট (লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস) নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেয়, কারণ অতিরিক্ত মাংস হজমে পানি ও শক্তি উভয়েরই প্রয়োজন পড়ে।

ফাইবারের গুরুত্ব অপরিসীম

ভারী খাবার হজমে সাহায্য করে খাদ্যআঁশ (ফাইবার) । ঈদের সকালের আয়োজনে সালাদ বা হালকা শাকসবজি রাখলে তা অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং শরীরকে ভারী অনুভব থেকে বাঁচায়। এটি পাকস্থলীতে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক।

পানি পান করুন, দূরে থাকুন পানিশূন্যতা থেকে

গরমের দিনে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর শরীরে পানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উষ্ণ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি পানের ওপর গুরুত্বারোপ করে। চিনিযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত কফি এড়িয়ে খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করুন। লেবু ও সামান্য লবণ মিশ্রিত শরবত ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।

ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে হলে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা জরুরি। একবারে প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার পরিবর্তে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খাবার গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা কম হয়। সুষম খাদ্যের মূলনীতি—প্রোটিন, ফাইবার, শর্করা এবং পর্যাপ্ত পানি—একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত ঈদ উপভোগের চাবিকাঠি। সচেতন একটু পরিবর্তনই নিশ্চিত করতে পারে আপনার ঈদ উৎসব হয়ে উঠুক স্মরণীয় ও সুস্থকর।

তথ্যসূত্রঃ

★ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) – স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত নির্দেশিকা

★ হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ – পুষ্টি বিষয়ক প্রতিবেদন

আরও