৪ হাজার প্রবাসীর ভিসা জটিলতা, কূটনৈতিক তৎপরতা
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ভিসা বাতিলের শিকার হওয়া প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে এই জটিল কূটনৈতিক সংকট নিরসনে ইতোমধ্যেই সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে ।
গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এই উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেন । তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে অবগত এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত ও প্রকৃত চিত্র
প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ভিসা বাতিলের খবর প্রকাশিত হলেও, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গত ৩০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রকৃত সংখ্যা ৬২৬ জন । তবে নুরুল হক নুরের সর্বশেষ বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, এই সংখ্যা এখন প্রায় চার হাজারে উন্নীত হয়েছে এবং এই বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এখন আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ইতোমধ্যে এর মধ্যে ৪১৭ জনের তথ্য সংগ্রহ করে ভিসা পুনর্নবীকরণের আবেদন করা হয়েছে এবং বাকিদের তালিকাও দ্রুত জমা দেওয়া হবে ।
ভিসা বাতিলের মূল কারণ কী?
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন, এই ভিসা বাতিলের ঘটনা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নীতির ফল নয়। পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ভিসাও একই কারণে বাতিল হয়েছে । তিনি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার এবং হোস্ট দেশের আইন লঙ্ঘনকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, “আরব আমিরাত সরকার যখন প্রতারণামূলক কাগজপত্র শনাক্ত করতে পারে, তখন তারা সেই ভিসা নবায়ন করে না।”
এছাড়া, অনেক প্রবাসী চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণেও ভিসা হারিয়েছেন। আবুধাবি ও দুবাইতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যেই ওইসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে যাতে কর্মস্থল ফিরে পেতে সহায়তা করা যায় ।
সরকারের উদ্যোগ ও করণীয়
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, এই সংকট নিরসনে তিনটি মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ যৌথভাবে কাজ করছে । পাশাপাশি, যেসব প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফিরে এসে ভিসা বাতিলের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একটি জরুরি সেবা কেন্দ্র খোলা হবে, যেখানে ভুক্তভোগীরা নিবন্ধন করে তাদের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন ।
প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান
দুই প্রতিমন্ত্রীই প্রবাসী বাংলাদেশিদ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা কর্মরত দেশের আইন-কানুন মেনে চলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকেন যা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে । প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “অনেক প্রবাসী শেষ সম্বল বিক্রি করে বিদেশে যান। আইন লঙ্ঘন করলে তাদের শাস্তি পেতে হয়, যা আমাদের জন্য খুব কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে।”
সরকার আশাবাদী যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই এই জটিলতার সমাধান হবে এবং প্রবাসীরা তাদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবেন।