×
×
Saturday, 12 September, 2026, 3:45 pm


চা-শ্রমিকদের জন্য ২০ হাজার রেইনকোট: মানবিক উদ্যোগে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বৃষ্টির মধ্যেও নিরাপদে কাজের সুযোগ, সিলেট বিভাগের শ্রমিকদের জন্য শুরু হলো রেইনকোট বিতরণ কর্মসূচি।

ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬: প্রতিকূল আবহাওয়ায় চা-বাগানের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ আরও নিরাপদ করতে সিলেট বিভাগের চা-শ্রমিকদের মধ্যে ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে প্রতীকীভাবে রেইনকোট তুলে দেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য। বর্ষাকালে বৃষ্টির মধ্যেই অনেক শ্রমিককে চা-পাতা সংগ্রহের কাজে মাঠে থাকতে হয়। ফলে বৃষ্টিতে ভেজা, ঠান্ডা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করা তাদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করে। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০ হাজার রেইনকোট দিচ্ছে তিন প্রতিষ্ঠান

তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) দেবে ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট। অর্থাৎ উদ্যোগটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের CSR কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু বৃষ্টির হাত থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করা নয়; বরং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: সামাজিক সমস্যা সমাধানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য করে এগিয়ে এলে বড় বড় সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র, বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার একটি বার্তা উঠে এসেছে।

শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

রেইনকোট বিতরণ কর্মসূচিকে চা-শ্রমিকদের জন্য একটি বাস্তব ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে হয় এমন শ্রমিকদের জন্য একটি রেইনকোট দৈনন্দিন কর্মজীবনে সরাসরি উপকার বয়ে আনতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাদের প্রতিক্রিয়ায় এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কালিঘাট, মাকড়িছড়া, ভাড়াউড়া, রাজঘাট, মাজদিহি, ফুলবাড়ী, মাধবপুর, উত্তর আলীনগর ও পাত্রখোলা চা-বাগানের শ্রমিকরা ছিলেন। মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চা-পাতা উপহার দেন।

শুধু রেইনকোট নয়, শ্রমিককল্যাণে আরও উদ্যোগের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। বাংলাদেশ চা বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্য ও সরকারি নথিতে দেশের চা-বাগান ও শ্রমিকসংক্রান্ত কার্যক্রমের বিস্তৃত পরিসরও প্রতিফলিত হয়েছে।

তাই ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণের এই উদ্যোগকে শুধু একটি সাময়িক সহায়তা হিসেবে না দেখে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে চা-শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাত আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।

মানবিক উদ্যোগে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাত

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।

সব মিলিয়ে, চা-শ্রমিকদের মধ্যে ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কর্মসূচি বৃষ্টিপ্রবণ মৌসুমে শ্রমিকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতের যৌথ সামাজিক দায়িত্বের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে কয়েকজন শ্রমিকের কাছে রেইনকোট তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের হাজারো চা-শ্রমিকের কর্মজীবনে বাস্তব স্বস্তি এনে দেবে এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।

আরও