অর্থবছর হবে এপ্রিল-মার্চ, কার্যকর ২০২৮ থেকে
নতুন অর্থবছর কাঠামোয় আসছে বড় পরিবর্তন; ২০২৮ সাল থেকে এপ্রিলেই শুরু হয়ে মার্চে শেষ হবে বাংলাদেশের অর্থবছর।
বাংলাদেশে অর্থবছরের প্রচলিত সময়সীমায় বড় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত যে অর্থবছর গণনা করা হয়, তা পরিবর্তন করে এপ্রিল থেকে মার্চ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই অর্থবছর পদ্ধতি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত দেশের সরকারি বাজেট, আর্থিক পরিকল্পনা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি হিসাব-নিকাশের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা ও হিসাব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনারও প্রয়োজন হবে।
কেন পরিবর্তন করা হচ্ছে অর্থবছরের সময়সীমা
একটি দেশের অর্থবছর নির্ধারণের সঙ্গে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব সংগ্রহ, সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই অর্থবছরের সময় পরিবর্তন কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলের বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা জড়িত।
জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নতুনভাবে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদনের সময়সীমাতেও পরিবর্তন আসবে।
২০২৮ সাল থেকে নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন
প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে এপ্রিল মাসে নতুন অর্থবছর শুরু হবে এবং পরবর্তী বছরের মার্চ মাসে তা শেষ হবে। ফলে অর্থবছরের শুরু ও শেষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি আর্থিক কার্যক্রমের সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হবে।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর হিসাব, বাজেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায় এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে নতুন সময়সীমার সঙ্গে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে
অর্থবছর পরিবর্তনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। নতুন সময়সীমার সঙ্গে সরকারি বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়ে হিসাব ব্যবস্থার সমন্বয়, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তনের কারণে বাড়তি কাজের প্রয়োজন হবে।
অর্থবছরের নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে একটি সুস্পষ্ট রূপান্তর পরিকল্পনা। কোন সময়ের হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হবে, বাজেট বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নতুন অর্থবছরের সঙ্গে নিজেদের আর্থিক কার্যক্রম সামঞ্জস্য করবে এসব বিষয় বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সব মিলিয়ে, জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর পরিবর্তন বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তন। ২০২৮ সাল থেকে এটি কার্যকর হলে বাজেট, রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়ের প্রচলিত সময়সূচিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে।