অ্যান্ড্রয়েড বনাম আইফোনঃ ৭টি অকাট্য যুক্তিতে জেনে নিন কেন অ্যান্ড্রয়েড এগিয়ে
প্রযুক্তি জগতে স্মার্টফোন কেনার কথা উঠলেই শুরু হয় দুই শিবিরের লড়াই আইফোন না অ্যান্ড্রয়েড? অ্যাপলের আইফোন নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম প্রিমিয়াম ও স্ট্যাটাসের প্রতীক। কিন্তু সেটি সবার জন্য ‘সেরা’ তা কিন্তু নয়। দৈনন্দিন ব্যবহার, ফিচারের বৈচিত্র্য ও ব্যয়-সচেতনতার বিচারে অ্যান্ড্রয়েড ফোন অনেক ক্ষেত্রেই আইফোনকে টপকে যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক ৭টি শক্তিশালী কারণ, যা অ্যান্ড্রয়েডকে অনেকের কাছেই পছন্দের শীর্ষে রাখে।
১. সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা
আইফোনের সর্বশেষ মডেল কিনতে সাধারণ ক্রেতাকে প্রায়ই ৫০-৬০ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে ব্যয় করতে হয়। এই বাজেটেই অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমে স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস, জিওন বা পোকোর মতো ব্র্যান্ডের শীর্ষ ফ্ল্যাগশিপ ফোন মিলে যায়। আইফোনে একই অর্থে বরং পুরোনো বা লো-এন্ড ভ্যারিয়েন্ট কিনতে হয়। তাই কম খরচে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি চাইলে অ্যান্ড্রয়েডই জিতবে।
২. কাস্টমাইজেশনের মুক্ত বিশ্ব
আইফোন যেখানে আপনাকে অ্যাপলের বাঁধা ছকে চলতে বাধ্য করে, অ্যান্ড্রয়েড সেখানে খুলে দেয় স্বাধীনতার দরজা। থার্ড-পার্টি লঞ্চার দিয়ে হোম স্ক্রিনের চেহারা বদলে ফেলা, আইকন প্যাক বসানো, নোটিফিকেশন প্যানেল নিজের মতো সাজানো এসব অ্যান্ড্রয়েডে নিত্যদিনের ব্যাপার। আপনি চাইলে গেমিং মোড বা ভিন্ন থিমও ব্যবহার করতে পারেন, যা আইফোনে প্রায় অসম্ভব।
৩. দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও অতিদ্রুত চার্জিং
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বেশি ব্যাটারি আজ সাধারণ ব্যাপার, যা আইফোনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। আর ব্যাটারি শেষ হওয়ার ভয়ও কমিয়ে দেয় বাজবেক চার্জিং প্রযুক্তি। ৬৫ ওয়াট, ৮০ ওয়াট কিংবা ১২০ ওয়াট চার্জিং সাপোর্টে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ২০-৩০ মিনিটেই শতভাগ চার্জ হয়ে যায়, অথচ আইফোন এখনো তুলনামূলক ধীরগতিতে চার্জ হয়।
৪. ফিচারের বৈচিত্র্য ও অভিনবত্ব
মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে স্টোরেজ বাড়ানো, ফিজিক্যাল ডুয়াল সিম, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে, ১০০ এক্স হাইব্রিড জুম এসব ফিচার অ্যান্ড্রয়েডে কম দামেও পাওয়া যায়। বর্তমানে ভাঁজ করা ফোন বা ফোল্ডেবল ডিভাইসের সাশ্রয়ী সংস্করণও এনেছে অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডগুলো। আইফোনে এগুলোর অনেক কিছুই নেই, আর যেগুলো আছে সেগুলো পেতে খরচ হয় অনেক গুণ বেশি।
৫. অ্যাপ ডাউনলোডের স্বাধীনতা
অ্যাপলের কঠোর নীতি বলে—কেবল অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। কোনো প্রয়োজনীয় অ্যাপ সেখানে না থাকলে আপনি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে স্টোর ছাড়াও বিভিন্ন নিরাপদ উৎস থেকে ‘সাইডলোড’ করে অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর হাতে অনেক বেশি বিকল্প ও স্বাধীনতা থাকে।
৬. মেরামতের কম খরচ ও সহজলভ্যতা
আইফোনের স্ক্রিন ভাঙলে বা কোনো পার্টস নষ্ট হলে মেরামতের বিল শুনলে চোখ কপালে উঠতে পারে। একটি ডিসপ্লে বদলাতে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের যন্ত্রাংশের দাম তুলনামূলক অনেক কম। এবং প্রতিটি শহরের নির্ভরযোগ্য সার্ভিস সেন্টারে সহজেই সেগুলো মেরামত করানো যায়, যা আইফোনের জন্য সব জায়গায় সম্ভব নয়।
৭. সহজ ফাইল ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা ট্রান্সফার
আইফোনের ফাইল সিস্টেম জটিল, সীমিত এবং অন্য ডিভাইসে ফাইল ট্রান্সফার করতে গেলে প্রায়ই আইটিউনস বা বিশেষ সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। অ্যান্ড্রয়েডে খোলা ফাইল ম্যানেজার দিয়ে মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভ, কম্পিউটার যেকোনো জায়গা থেকে ডেটা কপি, মুভ বা ব্যাকআপ নেওয়া মুহূর্তের কাজ। এটি বড় ফাইল নিয়ে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য দারুণ সুবিধা।
দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট, চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটি ও প্রিমিয়াম লুকের কারণে আইফোনের একটা নিজস্ব গোষ্ঠী আছে। কিন্তু আপনি যদি আপনার অর্থের যথাযথ মূল্য, ব্যবহারের স্বাধীনতা, দ্রুত চার্জিং, মেরামতের স্বস্তি এবং বৈচিত্র্যময় ফিচারকে প্রাধান্য দেন, তাহলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনই আপনার জন্য যুক্তিসঙ্গত ও বুদ্ধিদীপ্ত পছন্দ।