×
×
Thursday, 29 October, 2026, 10:26 am


এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) স্বয়ংক্রিয়তার ভিড়ে মানবিক শক্তির ১০ দক্ষতা যা বদলাবে না

বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের কারণে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রচলিত কাজের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। এতে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি অনেকের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানবিক দক্ষতা এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী এক দশকেও প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান GoHumanize-এর একটি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আগামী ১০ বছরে বিশ্বে প্রায় ২৫ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায় চলে যেতে পারে। যদিও বর্তমানে এআই কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি কিংবা প্রশাসনিক নানা কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম, তবুও মানবিক বোধ, আবেগ বোঝার ক্ষমতা এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

গবেষণায় বিভিন্ন দক্ষতাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে নিয়োগদাতাদের চাহিদা, চাকরির বিজ্ঞাপনে দক্ষতার গুরুত্ব এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনায়। এর ফলাফলে দেখা যায়, নেতৃত্ব ও মানবসম্পর্কভিত্তিক দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে নেতৃত্বের দক্ষতা। প্রযুক্তি নেতৃত্বের কিছু অংশে সহায়তা করতে পারলেও মূল বিষয় মানুষকে অনুপ্রাণিত করা, আস্থা তৈরি করা এবং জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনো সম্পূর্ণ মানবনির্ভর। তাই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মানবিক নির্ভরতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলগত কাজের দক্ষতা। শুধুমাত্র কাজ ভাগ করে নেওয়াই নয়, বরং সহকর্মীদের মানসিক অবস্থা বোঝা, পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি করা এবং ভিন্ন ধরনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই জটিল সামাজিক দিকগুলোই এটিকে প্রযুক্তির বাইরে রাখছে।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলোচনার দক্ষতা। তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণে এআই সহায়তা করতে পারলেও সফল আলোচনার জন্য প্রয়োজন শরীরী ভাষা বোঝা, কণ্ঠের সূক্ষ্ম পরিবর্তন উপলব্ধি করা এবং তাৎক্ষণিক আবেগীয় প্রতিক্রিয়া দেওয়া যা এখনো মানুষের একান্ত বৈশিষ্ট্য।

এ ছাড়া কোচিং ও মেন্টরিংও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দক্ষতার মধ্যে পড়ে। একজন ব্যক্তি কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা বোঝার জন্য কেবল তথ্য যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সহমর্মিতা, মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা প্রযুক্তির জন্য এখনো চ্যালেঞ্জ।

মানুষের সামনে কথা বলার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ক্ষমতা এখনো যন্ত্র পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না। তাই যোগাযোগ দক্ষতা চাকরির বাজারে ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য দক্ষতার মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক নেতৃত্ব, পিপল ম্যানেজমেন্ট, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা।

গবেষকদের মতে, পেশাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হয়তো এখনো সঠিক দিকটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়গুলোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, অথচ এই কাজগুলোর বড় অংশই দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের জন্য টিকে থাকতে হলে তাই মানবিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, মানুষের অনুভূতি, নেতৃত্বগুণ এবং সম্পর্ক তৈরির ক্ষমতা এই গুণগুলোই তাকে অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা করে রাখবে। এগুলিই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

[atn_photocard]
আরও