×
×
Friday, 24 July, 2026, 10:27 pm


কর্কশতা ও অশালীন আচরণ: মানবিকতার পরিপন্থী পথ

সুন্দর ও নম্র ভাষা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে যেমন বৃদ্ধি করে, তেমনি কর্কশতা ও অশালীন আচরণ তাকে করে সমাজে নিন্দিত। মানুষ সামাজিক জীব। আর এই সামাজিক জীবনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক যোগাযোগ ও আচরণ। কিন্তু যখন এই আচরণে আসে কর্কশতা, অশালীন ও কটুভাষা, তখন তা শুধু সম্পর্কই নষ্ট করে না, গড়ে তোলে বিষাদ ও বিদ্বেষের এক প্রাচীর।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানুষকে সবসময় উত্তম ও নম্র ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, “আর তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ও সুন্দর কথা বলো।” [সুরা বাকারা: ৮৩] । এই একটি নির্দেশনার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একটি সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের রহস্য।

অশালীন ভাষা: সম্পর্কের বিষবাষ্প

কর্কশ ও অশালীন কথাবার্তা কোনো সমাজেই কাম্য নয়। এটি কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নিষিদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। গালিগালাজ, অশ্লীল কথা বা কারও প্রতি কটাক্ষ করা মানুষের মনে ক্ষোভ ও বিদ্বেষের আগুন জ্বালায়, যা সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে।

নম্রতা মুমিনের ভূষণ

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা ‘অনর্থক ও অসার কাজকর্ম’ থেকে বিরত থাকে [সুরা মুমিনুন: ৩] । প্রকৃত মুমিন কখনো অশ্লীল ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন না। কারণ ইসলামে অশ্লীল কথা-বার্তা, গালিগালাজ এবং অন্যকে অপমান করাকে গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

বিশেষ করে যখন কেউ কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন বা তর্কে জড়ান, তখনও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা উত্তম পন্থায় আহলে কিতাবের সঙ্গে বিতর্ক করবে।” [সুরা আনকাবুত: ৪৬]

আচরণে বিনয় ও সংযম

শুধু কথায় নয়, আচরণেও বিনয় ও নম্রতা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কোরআনে বিনয়ী মানুষদের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, “দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে…” [সুরা ফুরকান: ৬৩] ।

লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “সংযতভাবে তুমি তোমার পা পরিচালনা করবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখবে। নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।” [সুরা লোকমান: ১৯] । এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের চলাফেরা এবং কথাবার্তার ধরন কেমন হওয়া উচিত।

পরিণতি ও করণীয়

অশ্লীল ও কটুভাষা ব্যবহার করা যে শুধু নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ, তা নয়; এটি আল্লাহর কাছে একটি গুরুতর পাপও বটে। কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “আর যারা অশ্লীল কথা-কাজ এড়িয়ে চলে এবং মন্দের প্রতিশোধ মন্দ দিয়ে দেয় না…” [সুরা ফুরকান: ৭২] । সুতরাং, ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে আমাদের উচিত নিজেদের ভাষা ও আচরণকে সংযত করা এবং নম্রতা ও শালীনতাকে জীবন-দর্শন হিসেবে গ্রহণ করা।

আরও