×
×
Sunday, 26 July, 2026, 7:18 am


ঘরে বসেই ঋণঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ই-লোন’ সেবায় সহজ হবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণপ্রাপ্তি

ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হচ্ছে ‘ই-লোন’ বা সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ঋণসেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই ঘরে বসে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

গত ১১ মে, সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ই-লোন কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই সম্পূর্ণ ঋণপ্রক্রিয়া

নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ বা ব্যাংকের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ বিতরণ সবকিছুই সম্পন্ন হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এমনকি ঋণের কিস্তি পরিশোধও অনলাইন মাধ্যমেই করতে হবে।

ঋণের সীমা, মেয়াদ ও সুদের হার

ই-লোন সুবিধার আওতায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ মাস। সুদের হার ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা ব্যবহার করা হলে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

যাচাইকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক ডেটা এবং অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদন পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে যেসব গ্রাহক বর্তমানে খেলাপি ঋণগ্রহীতা, তারা এই সুবিধা পাবেন না।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা

ই-লোন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল এবং আগাম ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত সব তথ্য আগেই গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না এ বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তায় জোর

ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর জন্য প্রস্তুতিমূলক শর্ত

ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং তা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, ‘ই-লোন’ ব্যবস্থা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে। এটি একদিকে যেমন গ্রাহকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করবে, অন্যদিকে ব্যাংকিং সেবাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।

আরও