×
×
Saturday, 31 October, 2026, 8:22 pm


পরনিন্দাকারী ও সম্পদ-লোভীর পরিণতি”

وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ
الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ
كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ
نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ
الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ
إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ
فِي عَمَدٍ مُّمَدَّدَةٍ

🔹 বাংলা অর্থ

ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও অপবাদ দেয়।
যে সম্পদ জমা করে এবং তা গুণে রাখে।
সে মনে করে তার সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে।
কখনোই না! তাকে নিক্ষেপ করা হবে ‘হুতামা’-তে।
আপনি জানেন ‘হুতামা’ কী?
এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন,
যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
নিশ্চয়ই তা তাদের ওপর বন্ধ করে দেওয়া হবে,
লম্বা স্তম্ভসমূহে (বদ্ধ অবস্থায়)। সূরা আল-হুমাযাহঃ

আল্লাহ বলেন,

“وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ”

অর্থ: ধ্বংস তাদের জন্য, যারা দোষ খোঁজে ও অপবাদ দেয়।

হুমাযাহ: সামনাসামনি কাউকে অপমান করা, কটূক্তি করা।

লুমাযাহ: পেছনে নিন্দা করা (গীবত)।

এই আয়াত মানুষকে সতর্ক করছে যে, অন্যের সম্মান নষ্ট করা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা গোপনে দোষ খোঁজা

এসব শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং আল্লাহর কাছে বড় গুনাহ।

কোরআনের অন্য জায়গায়ও (যেমন সূরা হুজুরাত ৪৯:১২) গীবতকে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে এটি কত ভয়াবহ তা বোঝাতে।

🔹 ২-৩. “الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ، يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ”

অর্থ: যে সম্পদ জমায় এবং গুণে রাখে, সে মনে করে তার সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করবে।

এখানে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে শুধু টাকা জমায় আল্লাহর পথে ব্যয় করে না

সম্পদকে নিরাপত্তা মনে করে

এটি এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা (self-deception):

মানুষ ভাবে টাকা থাকলে সব আছে

কিন্তু মৃত্যু, হিসাব—এসব থেকে কেউ বাঁচতে পারে না

কোরআনের বহু জায়গায় (যেমন সূরা তাকাসুর ১০২:১-২) বলা হয়েছে, সম্পদের প্রতিযোগিতা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

“كَلَّا ۖ لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ”

অর্থ: কখনোই না! তাকে নিক্ষেপ করা হবে হুতামায়। আপনি জানেন ‘হুতামা’ কী?

“كَلَّا” (কখনোই না)— মানুষের ভুল ধারণাকে জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান।

হুতামা শব্দের অর্থ: “চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে” এমন আগুন।

এই শাস্তি শুধু বাহ্যিক নয়

এটি মানুষকে ভেতর থেকে ধ্বংস করবে

🔹 ৬-৭. “نَارُ اللَّهِ الْمُوقَدَةُ، الَّتِي تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْئِدَةِ”

অর্থ: এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

সাধারণ আগুন শরীর পোড়ায়

কিন্তু এই আগুন হৃদয় (অন্তর) পর্যন্ত পৌঁছে যাবে

কেন হৃদয়? কারণ—

গীবত, অহংকার, লোভ—সবই হৃদয়ের রোগ

তাই শাস্তিও হবে অন্তরের গভীরে

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা: পাপ শুধু কাজ নয়, অন্তরের অবস্থাও হিসাবের মধ্যে আসবে।

🔹 ৮-৯. “إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌ، فِي عَمَدٍ مُّمَدَّدَةٍ”

অর্থ: তা তাদের উপর বন্ধ করে দেওয়া হবে, দীর্ঘ স্তম্ভের মধ্যে।

জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকবে

কেউ বের হতে পারবে না

দীর্ঘ সময় ধরে শাস্তি চলবে

👉 এটি অসহায়ত্ব ও চূড়ান্ত শাস্তির চিত্র তুলে ধরে।

🌿 সামগ্রিক শিক্ষা

এই সূরা আমাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়:

১. 🗣️ জিহ্বার সংযম

গীবত, অপবাদ, ব্যঙ্গ সবই ধ্বংসের কারণ

মুসলিমের উচিত অন্যের সম্মান রক্ষা করা

২. 💰 সম্পদের সঠিক ব্যবহার

সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, আল্লাহর পথে ব্যয় করা জরুরি

সম্পদ কখনোই চিরস্থায়ী নিরাপত্তা দিতে পারে না

৩. ❤️ অন্তরের পরিশুদ্ধি

অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ—এগুলোই আসল রোগ

বাহ্যিক ভালো কাজ যথেষ্ট নয়, অন্তরও পরিষ্কার হতে হবে

৪. 🔥 আখিরাতের ভয়াবহতা

জাহান্নাম বাস্তব

শাস্তি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও আত্মিকও

ছোট এই সূরাটি আমাদের জীবনের একটি বড় সত্য শেখায়ঃ

👉 মানুষের সম্মান নষ্ট করা এবং সম্পদের অহংকার—এই দুই জিনিস মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

👉 আর যারা অন্তরকে শুদ্ধ রাখে, মানুষের প্রতি সদাচরণ করে—তাদের জন্যই মুক্তি।

[atn_photocard]
আরও