তিন সরকারের আমলেই দায়িত্বেঃ অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে মেয়াদ বাড়াল সরকার। ১১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা অর্থনীতি ও রাজস্ব প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। মঙ্গলবার থেকে নতুন মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব হিসেবে মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে সরকার। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন নিয়োগ অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর অর্থসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
খায়েরুজ্জামান মজুমদার ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট থেকে অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা এবং রাজস্ব প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তাঁর দায়িত্ব অব্যাহত থাকছে।
এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা স্থগিত রাখার শর্তে খায়েরুজ্জামান মজুমদারকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর নতুন মেয়াদ কার্যকর হবে যোগদানের তারিখ থেকে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা বা ব্যবসা এবং সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত চাকরির শেষ দিন ছিল সোমবার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, মঙ্গলবার তিনি নতুন মেয়াদে অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
২০২৩ সালে অর্থসচিবের দায়িত্ব পান
২০২৩ সালের আগস্টে তৎকালীন অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দিতে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে কর্মরত খায়েরুজ্জামান মজুমদার অর্থসচিবের দায়িত্ব পান।
অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট নীতিগত কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ করে দেয়।
প্রশাসন ও রাজস্ব খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
খায়েরুজ্জামান মজুমদার ১১তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি রাজস্ব খাতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরবর্তী সময়ে বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন পদে কাজ করেন তিনি। প্রশাসন, শুল্ক, আবগারি ও অর্থ বিভাগের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্থসচিব হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের সময়েও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যেও অর্থ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর কর্মঅভিজ্ঞতা অব্যাহত রয়েছে।
উচ্চশিক্ষা দেশে ও বিদেশে
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে খায়েরুজ্জামান মজুমদারের। তিনি যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। একই বিষয়ে এমএসএস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
অর্থনীতি, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও সরকারি প্রশাসন সম্পর্কে তাঁর এই শিক্ষাগত পটভূমি অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালনে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতার গুরুত্ব
অর্থসচিব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ অবস্থায় অভিজ্ঞ একজন কর্মকর্তার মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন মেয়াদে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি নির্ভর করবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন চুক্তির মেয়াদ হবে এক বছর। মঙ্গলবার থেকে নতুন মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে খায়েরুজ্জামান মজুমদারের।