×
×
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ


এনবিআর সংস্কার ছিল অসম্পূর্ণ,অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার হিসেবে কাজ করেনি। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একটি অসম্পূর্ণ প্রয়াস, যা প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। বরং তিনি মনে করেন, আংশিক সংস্কার অনেক সময় পুরোপুরি সংস্কার না থাকার চেয়েও বেশি জটিলতা তৈরি করে।

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পৃথক দুটি অংশে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট। তবে করনীতির দায়িত্ব কারা নেবে, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে করনীতি নির্ধারণ করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। বর্তমানে এ বিষয়ে একটি বিল সংসদে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সেটিকে আরও কার্যকর করার জন্য একটি কমিটি কাজ করছে।

সরকারি প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১,৩০০টি চলমান প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এসবের মধ্যে কিছু প্রকল্প ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনিয়মের কারণে নেওয়া হয়েছিল, যা জনগণের জন্য তেমন উপকার বয়ে আনবে না। ভবিষ্যতে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক লাভ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত দিকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরাসরি যোগাযোগনির্ভর ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসা সহজীকরণ নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, দুর্নীতির আশঙ্কায় নীতিগত সিদ্ধান্ত বন্ধ রাখা ঠিক নয়; বরং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হলো তা প্রতিরোধ করা।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, International Monetary Fund, World Bank এবং Asian Development Bank-এর সঙ্গে কাজ করার সময় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব শর্ত দেশের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে এমন মতও তিনি প্রকাশ করেন।

পুঁজিবাজার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে Bangladesh Securities and Exchange Commission-এ বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। সেখানে রাজনৈতিক নিয়োগ এড়িয়ে পেশাদারদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বর্তমান সরকার বহন করছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। মহেশখালীতে বড় আকারের গ্যাস সংরক্ষণ ও আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা যায়।

রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো সুবিধা ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বর্ণালঙ্কার খাতেও দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এসব খাতে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানো হতে পারে।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা কর ও শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কতা জানান। তাঁদের মতে, এই মুহূর্তে কর বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও