মুখে এক, কাজে ভিন্ন—নিন্দিত
কুরআন মজীদ মানুষকে শুধু সুন্দর কথা বলতে বলে না, বরং কথা ও কাজের মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য রক্ষা করার নির্দেশ দেয়। যারা যা বলে তা করে না, আল্লাহ তাদের এই অবস্থাকে অত্যন্ত অপছন্দনীয় বলে ঘোষণা করেছেন।
কুরআনের স্পষ্ট সতর্কবাণীঃ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
*“হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল যা তোমরা কর না? আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত ঘৃণিত যে, তোমরা যা বল না তা কর।”*
(সূরা আস-সাফ, ৬১:২-৩)
এই আয়াতে আল্লাহ সরাসরি ঈমানদারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন এবং কথা ও কাজের অমিলকে তাঁর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় কাজ বলে চিহ্নিত করেছেন।
ঈমান ও সৎকর্মের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কঃ
কুরআন বারবার ঈমান ও সৎকর্মকে একসাথে উল্লেখ করেছে। শুধু বিশ্বাসই যথেষ্ট নয়, সেই বিশ্বাসকে কাজে রূপায়িত করতে হয়।
– “যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।”
(সূরা আল-বাকারা, ২:৮২)
– “যে ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী হোক, ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্যতম অন্যায়ও করা হবে না।”
(সূরা আন-নিসা, ৪:১২৪)
– “নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, কিন্তু যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।”
(সূরা আল-‘আসর, ১০৩:২-৩)
– “যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম।”
(সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, ৯৮:৭)
আত্মপ্রশ্নের আহ্বানঃ
কুরআন আমাদেরকে নিজেদের অবস্থা পর্যালোচনা করতে বলে। যে ব্যক্তি অন্যকে উপদেশ দেয় কিন্তু নিজে তা আমল করে না, তার অবস্থা কুরআনের দৃষ্টিতে গুরুতর। আল্লাহ বলেন যে, যারা ঈমানের দাবি করে অথচ কাজে তা প্রকাশ করে না, তাদের এই দ্বিমুখীতা তাঁর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।
কুরআনের আলোকে প্রকৃত ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যিনি যা বলেন তা করেন। কথা ও কাজের মিল না থাকলে ঈমানের দাবি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আল্লাহ আমাদের সকলকে এমন ঈমান ও সৎকর্ম দান করুন যাতে আমাদের কথা ও কাজ এক হয়ে যায়।
“যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহান পুরস্কার।” সূরা ফাতির, ৩৫:৭
কথা বলা সহজ, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা কঠিন। কুরআন আমাদের সেই কঠিন পথেই আহ্বান জানায়—যেখানে কথা ও কাজ এক হয়ে যায়।
আসুন, আমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন করি—
আমি যা বলি, আমি কি তা করি?