×
×
Tuesday, 28 July, 2026, 5:30 am


দৃশ্যমান ধর্মীয়তা বনাম নৈতিক অবক্ষয়: একটি সামাজিক ব্যবচ্ছেদ

​একটি সাধারণ রবিবারের দুপুর। ক্যালেন্ডারের পাতায় কোনো বিশেষ ধর্মীয় দিবস নেই, তবুও রাজধানীর এক বিশাল মসজিদের ভেতর ছাপিয়ে মুসল্লিদের কাতার বিস্তৃত হয়েছে বাইরের রাস্তা পর্যন্ত। জোহরের আজান হওয়ার সাথে সাথেই হাজারো মানুষ কাতারবদ্ধ হন স্রষ্টার সান্নিধ্যে। শুধু এই মসজিদটিই নয়, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মসজিদেরই এটি এক নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র।

​বাহ্যিক দৃষ্টিতে এই দৃশ্য দেখে যে কেউ মনে করতে পারেন—দেশটি এক পরম ধর্মপ্রাণ জনপদে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই দৃশ্যমান ধার্মিকতার মুদ্রার উল্টো পিঠ বিশ্লেষণ করলে এক উদ্বেগজনক ও বৈপরীত্যপূর্ণ সংকটের দেখা মেলে।

​মসজিদে তিল ধারণের জায়গা নেই ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন জাগে—মানুষের হৃদয়ে কি আল্লাহ এবং তাঁর দেওয়া বিধানের প্রকৃত গুরুত্ব জায়গা পেয়েছে? উপাসনাগৃহের কাতার যতোটা দীর্ঘ হচ্ছে, সমাজের নৈতিকতার দেয়াল ততোটাই যেন ধসে পড়ছে।

​ধর্মীয় আচারের এই ব্যাপক প্রসারের সমান্তরালে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে অস্থিরতা ও অপরাধ:

​সহিংসতা: প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতা খুললেই দেখা যায় খুন-খারাবি আর নৃশংসতার খবর।

​সামাজিক ব্যাধি: কিশোরী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ যেন থামছেই না।

​অর্থনৈতিক জুলুম: ব্যবসা-বাণিজ্যে লাগামহীন সিন্ডিকেট আর মজুদদারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

​যদি আমাদের কপালে সিজদার চিহ্ন আর পাড়ায় পাড়ায় মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার আনুপাতিক হয়, তবে সমাজে কেন এই বিচারহীনতা আর নৈতিক অবক্ষয়? ধর্ম তো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা মানুষের চরিত্রে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। যখন মানুষ কাতারবদ্ধ হয়ে প্রার্থনা শেষ করে বেরিয়েই আবার মিথ্যে বলা, অন্যের অধিকার হরণ করা কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় লিপ্ত হয়, তখন সেই ‘ধর্মপ্রাণতা’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

​ধর্মীয় এই জাগরণ যদি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে না পারে, তবে তা কেবল একটি যান্ত্রিক অভ্যাসে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সমাজ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণের জন্য এখন দৃশ্যমান ধর্মীয়তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন হৃদয়ের উপলব্ধি এবং ইসলামের মূল নৈতিক শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

আরও