আল্লাহর বিধানই একমাত্র জীবনব্যবস্থা
ফরিদ আহম্মেদ খান
*কোরআনের আলোকে দ্বীন পালনের সঠিক পথঃ*
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন উদ্দেশ্যহীনভাবে নয়। তিনি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য একটি পরিপূর্ণ, নির্ভুল ও কল্যাণময় বিধান নাযিল করেছেন, আর তা হলো আল-কুরআন। এই কুরআন কোনো নির্দিষ্ট সময়, জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতের গ্রন্থ।
আল্লাহ বলেন—
*“এটি সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।”*
(সূরা আল-বাকারা, ২:২)
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আমরা অনেকেই আল্লাহর দেওয়া বিধানকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মনগড়া নিয়ম, সংস্কার ও পূর্বপুরুষের অনুসৃত প্রথাকে দ্বীনের নামে চালু করে দিই। অথচ আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
*আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা—চরম জুলুম*
আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন—
*“অতএব তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে?”*
(সূরা আল-আনআম, ৬:২১)
দ্বীনের নামে এমন কিছু বলা বা করা, যার কোনো ভিত্তি আল্লাহর নাজিরকৃত কোরআন নেই—তা মূলত আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করা। এটি শুধু গুনাহই নয়, বরং জুলুমের সর্বোচ্চ রূপ।
*মনগড়া ধর্ম ও নামকরণ*—
আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়
আল্লাহ তাআলা সূরা ইউসুফে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলেছেন—
*“তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল কিছু নামেরই ইবাদত করছ, যেগুলো তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা নামকরণ করেছ। আল্লাহ এগুলোর কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। বিধান তো একমাত্র আল্লাহরই।”*
(সূরা ইউসুফ, ১২:৪০)
এই আয়াত আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—দ্বীনের নামে প্রচলিত বহু আচার, উপাধি ও বিধানের সঙ্গে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো মানুষের তৈরি, মানুষের স্বার্থে সাজানো।
*আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে অন্য বিধান গ্রহণ—চরম পথভ্রষ্টতা*
আল্লাহ বলেন—
*“যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।”*
(সূরা আল-মায়িদা, ৫:৪৪)
আরেক স্থানে বলেন—
*“তারাই জালেম।”*
(সূরা আল-মায়িদা, ৫:৪৫)
*“তারাই ফাসিক।”*
(সূরা আল-মায়িদা, ৫:৪৭)
এখানে আল্লাহ একই অপরাধের জন্য তিনটি ভয়াবহ পরিচয় উল্লেখ করেছেন—কুফর, জুলুম ও ফিসক। কারণ আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে অন্য কোনো বিধান গ্রহণ করা মানেই আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা।
মুমিনের কর্তব্য—সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা
যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদের পরিচয় আল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন—
*“কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে তারা সে বিষয়ে নিজেদের মতামত পেশ করবে।”*
(সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৩৬)
*মুমিনের কাজ হলো—শোনা ও মানা।*
*“মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, যাতে তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করেন, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মানলাম।”*
(সূরা আন-নূর, ২৪:৫১)
আল্লাহ আমাদের জন্য যে দ্বীন পছন্দ করেছেন, তা পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ।
*“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”*
(সূরা আল-মায়িদা, ৫:৩)
অতএব, হে মুমিন!
আল্লাহর সন্তুষ্টি যদি আমাদের লক্ষ্য হয়, তবে আমাদের উচিত—
কোরআনকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করা এবং ইবাদত ও আমল করা
মনগড়া ধর্ম, সংস্কার থেকে দূরে থাকা
আল্লাহর বিধানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করা
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।
*রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দোয়া*