×
×
Sunday, 13 September, 2026, 12:35 pm


মহাবিশ্বের সৃষ্টি, সম্প্রসারণ ও পরিণতিঃ কোরআনের আলোকে ‘Infinite Life Cycle of the Universe’ ধারণার পুনর্বিবেচনা

লেখক ও বিশ্লেষকঃ মাহতাব উদ্দিন, ইংল্যান্ড

বিগ ব্যাং, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও কিয়ামত কোনটি কোরআনের স্পষ্ট বক্তব্য, আর কোনটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুমান?

মহাবিশ্বের প্রকৃতি, এর সূচনা এবং চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে মানুষের অনুসন্ধান বহু প্রাচীন। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে ‘বিগ ব্যাং’ মডেল ব্যবহৃত হয়। একইভাবে মহাবিশ্ব ভবিষ্যতে সংকুচিত হয়ে একটি চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছাতে পারে এমন একটি তাত্ত্বিক ধারণাকে বলা হয়েছে ‘বিগ ক্রাঞ্চ’ বা Big Crunch।

তবে একটি বিষয় শুরুতেই স্পষ্ট করা জরুরি বিগ ব্যাং, বিগ ক্রাঞ্চ কিংবা একাধিক মহাবিশ্বের (Multiverse) ধারণাকে কোরআনের সরাসরি বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। কোরআন মহাবিশ্বের সৃষ্টি, এর বিস্তৃতি, আসমান-জমিনের প্রাথমিক অবস্থা এবং কিয়ামতের সময় সৃষ্টিজগতের পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে; কিন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোর নাম কোরআনে নেই।

এই পার্থক্যটি বজায় রেখেই কোরআনের আয়াত ও আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

মহাবিশ্ব কি একটিমাত্র, নাকি আরও কিছু আছে?

মানুষ ত্রিমাত্রিক জগতের অভিজ্ঞতার মধ্যেই বসবাস করে। আমরা মহাবিশ্বের অসংখ্য বস্তু, শক্তি ও প্রাকৃতিক নিয়ম সম্পর্কে ধীরে ধীরে জ্ঞান অর্জন করছি। কিন্তু মানুষের জ্ঞান যে সীমাবদ্ধ কোরআন সে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

আল্লাহ বলেন,

«“তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে অতি সামান্য।”
—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮৫»

অতএব মহাবিশ্বের প্রকৃত পরিসর, এর বাইরে অন্য কোনো জগত বা মহাবিশ্ব রয়েছে কি না, কিংবা সৃষ্টির কত স্তর বা মাত্রা মানুষের অজানা এসব বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান দাবি করার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।

কোরআনে আবার এসেছে

«“সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা এবং যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহক করেছেন তাদের দুই, তিন ও চার ডানাবিশিষ্ট করেছেন। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন।”
—সূরা ফাতির, ৩৫:১»

এখানে ‘ফাতির’ শব্দের অর্থ প্রথমবার সৃষ্টি/উদ্ভাবনকারী বা সৃষ্টির সূচনাকারী। তাই ‘ফাতির’ শব্দকে সরাসরি ‘বিগ ব্যাং’ বা ‘প্রচণ্ড নিনাদে বিদীর্ণ হয়ে সৃষ্টি’ হিসেবে অনুবাদ করা ভাষাগতভাবে যথাযথ নয়।

কোরআনে মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা

মহাবিশ্বের সূচনা সম্পর্কে কোরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়াত হলো সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত।

আল্লাহ বলেন,

«“অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন একীভূত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং পানি থেকে প্রত্যেক জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করলাম? তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?”
—সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৩০»

এই আয়াত মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে একটি গভীর বক্তব্য উপস্থাপন করে। আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞানের সঙ্গে এর কিছু তুলনামূলক আলোচনা করা যায়। তবে এটিকে সরাসরি ‘বিগ ব্যাংয়ের বৈজ্ঞানিক সূত্র’ বলা উচিত নয়; বরং বলা যেতে পারে, কোরআনের বর্ণনা মহাবিশ্বের প্রাথমিক ঐক্য ও পরবর্তী পৃথকীকরণের একটি চিত্র তুলে ধরে।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ একটি প্রতিষ্ঠিত পর্যবেক্ষণভিত্তিক বিষয়। কোরআনে এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়াত রয়েছে।

আল্লাহ বলেন,

«“আর আকাশকে আমি শক্তি দ্বারা নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি তা সম্প্রসারণকারী।”
—সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:৪৭»

এই আয়াতের আরবি শব্দ ও অনুবাদ নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। তবে আয়াতটি মহাবিশ্বের বিস্তৃতি বা সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কোরআনিক বক্তব্য হিসেবে আলোচিত হয়।

এখানে অবশ্য সতর্কতা প্রয়োজন: কোরআনকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের পাঠ্যবই হিসেবে ব্যবহার না করে, আয়াতের নিজস্ব বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে সম্ভাব্য সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করাই অধিক গ্রহণযোগ্য।

মহাবিশ্ব কি একদিন সংকুচিত হবে?

এখানেই ‘Big Crunch’ ধারণাটি সামনে আসে। Big Crunch হলো এমন একটি মহাজাগতিক তত্ত্ব, যেখানে কোনো এক পর্যায়ে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থেমে গিয়ে বিপরীতমুখী সংকোচন শুরু হতে পারে এবং সমগ্র মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ঘন অবস্থায় পতিত হতে পারে।

কোরআনে ‘Big Crunch’ শব্দটি নেই এবং মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সংকোচনকে Big Crunch হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে কিয়ামতের সময় আকাশমণ্ডলীর বর্তমান কাঠামো পরিবর্তিত হওয়ার কথা কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,

«“যেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলব, যেমন গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত পত্র; যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই আবার তা পুনরাবৃত্তি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি; নিশ্চয়ই আমি তা করব।”
—সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:১০৪»

আরও বলা হয়েছে,

«“যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে।”
—সূরা আল-ইনশিকাক, ৮৪:১-২»

সুতরাং কোরআনের ভাষায় কিয়ামত হচ্ছে বর্তমান সৃষ্টিজগতের কাঠামোগত পরিবর্তন ও পরবর্তী পুনরুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত এক মহাবিরাট ঘটনা। এটিকে Big Crunch-এর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে একটি ব্যাখ্যামূলক উপমা হিসেবে, কিন্তু দুটিকে অভিন্ন বৈজ্ঞানিক ধারণা হিসেবে ঘোষণা করা ঠিক নয়।

সৃষ্টি থেকে পরীক্ষা মানবজাতির অবস্থান কোথায়?

কোরআন মানুষকে এই মহাবিশ্বের উদ্দেশ্যহীন একটি সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করে না। বরং মানুষকে পরীক্ষা ও জবাবদিহির অধীন করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,

«“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন কে আমলে অধিক উত্তম।”
—সূরা আল-মুলক, ৬৭:২»

মানুষের সামনে রয়েছে ভালো ও মন্দের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ। কোরআন মানুষের বিবেক, বিচারবোধ এবং সত্য-মিথ্যা উপলব্ধির ক্ষমতার কথাও তুলে ধরে।

«“অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়া সম্পর্কে জ্ঞান দিয়েছেন।”
—সূরা আশ-শামস, ৯১:৮»

অন্যদিকে আল্লাহ রাসুলদের মাধ্যমে মানুষকে পথনির্দেশ দিয়েছেন,

«“নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ। অতএব তোমরা তারই অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না; তা হলে সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।”
—সূরা আল-আনআম, ৬:১৫৩»

শয়তান ও মানুষের পরীক্ষা

মানুষের পরীক্ষার অন্যতম দিক হলো সত্যের পথ ও বিভ্রান্তির পথের মধ্যে নির্বাচন।

কোরআনে শয়তানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—

«“আমি অবশ্যই তাদের জন্য তোমার সরল পথে ওত পেতে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে থেকে তাদের কাছে আসব এবং তুমি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবে না।”
—সূরা আল-আ’রাফ, ৭:১৬-১৭»

তবে শয়তানের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। কোরআন স্পষ্টভাবে জানায়,

«“নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো ক্ষমতা নেই।”
—সূরা আল-হিজর, ১৫:৪২»

অর্থাৎ মানুষের সামনে প্রলোভন রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব মানুষের নিজের।

সালাত মানুষের জন্য স্মরণ ও শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠান

কোরআন সালাতকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত হিসেবে নয়, বরং মানুষের নৈতিক ও আত্মিক সংযমের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

আল্লাহ বলেন,

«“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।”
—সূরা আল-আনকাবুত, ২৯:৪৫»

অতএব মানুষের জন্মগত বিচারবোধ, ওহির পথনির্দেশ এবং সালাত এসবকে কোরআনিক কাঠামোর মধ্যে মানুষের নৈতিক পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা যায়।

‘লাইলাতুল কদর’ কি মহাবিশ্বের কোনো বিশেষ মহাজাগতিক পর্যায়?

সূরা আল-কদরে বলা হয়েছে,

«“নিশ্চয়ই আমি এটি অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হয়। শান্তি এটি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।”
—সূরা আল-কদর, ৯৭:১-৫»

এখানে ‘লাইলাতুল কদর’-কে সরাসরি কোনো Dark and Warm Arena, মহাবিশ্বের কোনো নির্দিষ্ট পদার্থবৈজ্ঞানিক পর্যায় বা ‘প্রকৃতির বিধি সংরক্ষণের মহাজাগতিক ডিস্ক’ হিসেবে নির্ধারণ করার মতো স্পষ্ট কোরআনিক প্রমাণ নেই।

একইভাবে সূরা আল-বুরুজে বলা হয়েছে,

«“বরং এটি মহিমান্বিত কোরআন, সংরক্ষিত ফলকে।”
—সূরা আল-বুরুজ, ৮৫:২১-২২»

এই আয়াতের সঙ্গে লাইলাতুল কদরের সম্পর্ক স্থাপন করে আরও বিস্তৃত দার্শনিক ব্যাখ্যা করা যেতে পারে; কিন্তু সেই ব্যাখ্যাকে কোরআনের সরাসরি বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

কসমিক ‘ফালাক’ এবং সূরা আল-ফালাক

‘ফালাক’ শব্দের অর্থ উদয়, ভোরের আলো বা বিদীর্ণ করে প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। সূরা আল-ফালাকে বলা হয়েছে,

«“বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার প্রভুর।”
—সূরা আল-ফালাক, ১১৩:১»

তাই ‘ফালাক’কে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট Cosmic Structure বা নক্ষত্র সৃষ্টির পর আবির্ভূত মহাজাগতিক কাঠামো হিসেবে নির্ধারণ করার পক্ষে কোরআনে সুস্পষ্ট ভাষাগত ভিত্তি নেই।

আমরা মহাবিশ্বের কত নম্বর চক্রে আছি?

‘মহাবিশ্ব সৃষ্টি → সম্প্রসারণ → সংকোচন → ধ্বংস → পুনরায় সৃষ্টি’—এভাবে অসীম সংখ্যক চক্রের মধ্য দিয়ে মহাবিশ্ব চলছে—এটি একটি আকর্ষণীয় দার্শনিক ও মহাজাগতিক ধারণা। কিন্তু কোরআন আমাদেরকে মহাবিশ্বের কততম Cycle চলছে বা ভবিষ্যতে কতবার সৃষ্টি-ধ্বংস ঘটবে এ তথ্য দেয়নি।

বরং কোরআন মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে এ বিষয়ে সর্বোত্তম অবস্থান হলো যেখানে কোরআন স্পষ্ট, সেখানে দৃঢ় থাকা; আর যেখানে কোরআন নীরব, সেখানে বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক অনুমানকে ‘অনুমান’ হিসেবেই রাখা।

মহাবিশ্ব কি উদ্দেশ্যহীন?

কোরআনের দৃষ্টিতে সৃষ্টিজগত অর্থহীন বা উদ্দেশ্যহীন নয়।

আল্লাহ বলেন,

«“হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি; তুমি পবিত্র। অতএব আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯১»

এই আয়াতই আলোচনার মূল দর্শনকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ধারণ করে। মহাবিশ্বের বয়স কত, এটি কতবার সম্প্রসারিত হয়েছে, ভবিষ্যতে Big Crunch হবে কি না, কিংবা একাধিক Universe রয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান চলতে পারে। কিন্তু কোরআনের দৃষ্টিতে সৃষ্টিজগতের একটি গভীর তাৎপর্য রয়েছে।

শেষ কথাঃ

মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এখনো সীমিত। Big Bang ও মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান যত এগোচ্ছে, ততই মহাবিশ্বের গভীর রহস্য আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কোরআন মানুষকে তার সীমিত জ্ঞানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়।

তাই ‘Infinite Life Cycle of the Universe’ ধারণাটিকে একটি সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক-দার্শনিক মডেল হিসেবে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এটিকে কোরআনের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করার আগে কোরআনের স্পষ্ট বক্তব্য ও মানুষের ব্যাখ্যার মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখা অপরিহার্য।

কারণ মহাবিশ্বের কতটি চক্র ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আমরা কোন পর্যায়ে অবস্থান করছি এবং ভবিষ্যতে সৃষ্টিজগতের প্রকৃত পরিণতি কী এসবের পূর্ণ জ্ঞান মানুষের নয়।

“তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে অতি সামান্য।”
—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮৫

আর মুমিনের হৃদয়ে তাই প্রতিধ্বনিত হয়,

“হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করোনি।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯১

আরও