×
×
Tuesday, 15 September, 2026, 3:31 pm


১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো, বাস্তবায়নের পথে নবম পে-স্কেল

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অবশেষে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর আওতায় বেতন পেতে শুরু করবেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই বিপুল ব্যয়ের চাপ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে একবারে বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে, বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী ধাপে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং কর আহরণের সামগ্রিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সব দিক বিবেচনার পর সরকার এই কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে হঠাৎ চাপ সৃষ্টি হবে না এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজতর হবে।

এর আগে ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশে উল্লেখ করে, সরকারি চাকরির গ্রেড সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি পাবে প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধানও কমিয়ে ১:৮ অনুপাতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে, তবে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে।

সার্বিকভাবে, নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

আরও