প্রকৃত মুমিনদের গুণাবলি কেমন…?
🌿 সূরা আল-মুমিনুন (২৩ঃ১–১১)
١. قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
٢. الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
٣. وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
٤. وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ
٥. وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
٦. إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ
٧. فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
٨. وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ
٩. وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
١٠. أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ
١١. الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
বাংলা অর্থ
১. নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে।
২. যারা তাদের নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা বজায় রাখে।
৩. যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে।
৪. যারা যাকাত প্রদান করে।
৫. যারা তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে।
৬. তবে তাদের স্ত্রী বা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত—এক্ষেত্রে তারা নিন্দিত নয়।
৭. অতএব, কেউ এর বাইরে কিছু চাইলে তারা সীমালঙ্ঘনকারী।
৮. এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।
৯. এবং যারা তাদের নামাজসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে।
১০. তারাই প্রকৃত উত্তরাধিকারী।
১১. যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
মানব জীবনের প্রকৃত সফলতা কোথায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কুরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের সামনে এক আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়ায়। সূরা আল-মুমিনুন এর প্রথম ১১টি আয়াতে আল্লাহ তাআলা এমন এক শ্রেণির মানুষের পরিচয় দিয়েছেন, যারা কেবল নামমাত্র মুসলিম নয়, বরং প্রকৃত অর্থে সফল মুমিন।
এই সফলতার সূচনা হয় সলাতে খুশু (বিনয় ও একাগ্রতা) দিয়ে। সলাত কেবল কিছু শব্দ উচ্চারণ নয়; এটি হৃদয়ের গভীর সংযোগ। এরপর আসে অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কাজ থেকে বিরত থাকা, যা মানুষের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে।
একজন মুমিনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো যাকাত প্রদান যা সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করে। পাশাপাশি, নৈতিক পবিত্রতা রক্ষা করা বিশেষ করে দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রে এই আয়াতগুলোতে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রকৃত মুমিনরা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। এটি শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি। এবং সবশেষে আবারও নামাজের কথা উল্লেখ করে বোঝানো হয়েছে একজন মুমিন তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে অটুট রাখে।
এই গুণাবলির অধিকারীরাই আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পুরস্কার লাভ করবে জান্নাতুল ফিরদাউস, যেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবে। এটি কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এক অনন্ত শান্তি ও সফলতার ঘোষণা।
এই আয়াতগুলো আমাদের শেখায় সফলতা ধন-সম্পদ বা খ্যাতিতে নয়, বরং আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্যতায়। যদি আমরা এই গুণগুলো নিজের জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে আমরাও সেই সফলদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, যাদের জন্য জান্নাত অপেক্ষা করছে।