নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি, ভারতে পালানোর পরিকল্পনা
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নূরাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আরেক আসামি হযরত আলীকেও আটক করা হয়। এ নিয়ে কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় গত দুই দিনে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, এজাহারে উল্লেখিত ধর্ষণে সরাসরি জড়িত চারজন এবং অপরাধে সহায়তাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই পলাতক আসামিকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী ১ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আজ দুপুরে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি নূরা ও হযরত আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার রাতে কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় একটি চক্র। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শুক্রবার রাতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।