×
×
Thursday, 29 October, 2026, 8:08 am


❝ইসলামকে সংখ্যার দৃষ্টিতে নয়, আত্মশুদ্ধির দৃষ্টিতে দেখুন❞

উপস্থাপনায়ঃ ইউসুফ হোসাইন

সম্পূর্ণ কুরআন গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে আল্লাহ তায়ালার কাছে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াই মূল বিষয় নয়; বরং মানুষ কীভাবে ইসলামকে বুঝেছে, কতটুকু সত্যকে গ্রহণ করেছে, নিজের জীবনকে কতটুকু সংশোধন করেছে এবং কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে এসব বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কতজন মানুষ নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দিল শুধু এই সংখ্যাটি আল্লাহর কাছে সাফল্যের মাপকাঠি নয়। বরং মানুষ তার ঈমান, আমল, ন্যায়বোধ, চরিত্র, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে কতটুকু আল্লাহর সন্তুষ্টির উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পেরেছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কুরআন বারবার মানুষকে শুধু পরিচয়ের দিকে নয়, বিশ্বাস, চিন্তা, কর্ম ও চরিত্রের সংশোধনের দিকে আহ্বান করেছে।

সালামুন আলা রাসুলুল্লাহ এর যুগেও মানুষের গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কষ্টদায়ক ছিল। তখন আল্লাহ তাঁর রাসুলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন,

“তোমার দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।”
—সূরা আন-নাহল ১৬:৮২

আর আল্লাহ বলেন,

لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ وَلَٰكِنَّ
اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ

“তাদের হিদায়াত দেওয়া তোমার দায়িত্ব নয়; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন।”
—সূরা আল-বাকারা ২:২৭২

এমনকি সালামুন আলাো রাসুল মানুষের ঈমান না আনার কারণে এতটাই চিন্তিত হতেন যে আল্লাহ তাঁকে বলেন,

فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا

“তারা এই বাণীর প্রতি ঈমান না আনলে তাদের পেছনে দুঃখ করতে করতে তুমি হয়তো নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলবে।”
—সূরা আল-কাহফ ১৮:৬

অর্থাৎ সালামুন আলা রাসুল -এর দায়িত্ব ছিল সত্যকে মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া; কে গ্রহণ করবে, কে প্রত্যাখ্যান করবে সেটি মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও আল্লাহর হিদায়াতের বিষয়।

তাই ইসলামকে শুধু সংখ্যার হিসাব দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।
একটি সমাজে যদি মুসলিমের সংখ্যা অনেক হয়, কিন্তু সেখানে মিথ্যা, জুলুম, প্রতারণা, মানুষের অধিকার হরণ, অহংকার, অশ্লীলতা ও অন্যায় বেড়ে যায় তাহলে শুধু সংখ্যাধিক্য দিয়ে ইসলামের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে বলা যায় না।
অন্যদিকে, একজন মানুষও যদি সত্যকে বুঝে, আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীল হয়, নিজের ভুল থেকে ফিরে আসে, মানুষের অধিকার রক্ষা করে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে তাহলে তার এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কুরআনের ভাষায়,

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا ۝ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا

“নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর ব্যর্থ হয়েছে সে, যে তাকে কলুষিত করেছে।”
—সূরা আশ-শামস ৯১:৯–১০

সুতরাং প্রশ্ন শুধু এই নয়

“কতজন মুসলিম?”
বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো

“যারা নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দিচ্ছে, তারা ইসলামকে কতটুকু বুঝেছে?”

“তাদের ঈমান তাদের চরিত্রে কতটুকু প্রকাশ পেয়েছে?”

“তারা কতটুকু আত্মশুদ্ধি অর্জন করেছে?”

“তারা মানুষের অধিকার কতটুকু রক্ষা করছে?”

“তারা আল্লাহর বাণীকে জীবনের কতটুকু অংশে বাস্তবায়ন করছে?”

ইসলাম কোনো সংখ্যার প্রতিযোগিতা নয়। ইসলাম হলো সত্যকে জানা, গ্রহণ করা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং সেই সত্য অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করা।

তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু মুসলিমের সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং এমন মানুষ তৈরি করা, যারা ইসলামকে বুঝবে, সত্যকে গ্রহণ করবে, নিজেদের সংশোধন করবে এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে।

সংখ্যা নয়—সত্যের উপলব্ধি।

পরিচয় নয়—চরিত্রের পরিবর্তন।

দাবি নয়— আত্মশুদ্ধি।

শুধু মুসলিম হওয়া নয় ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলা।

[atn_photocard]
আরও