×
×
Sunday, 26 July, 2026, 12:40 am


‘কালা হিরণ’ সিনেমা নিয়ে আদালতে সালমান খান: মুক্তি আটকাতে আইনি লড়াই

বলিউড মেগাস্টারের দাবি, ছবি মুক্তি পেলে নষ্ট হবে ভাবমূর্তি; অন্যদিকে প্রযোজকের যুক্তি, বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের অধিকার সবার আছে

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান তাঁর ভাবমূর্তি রক্ষায় এবার আইনি পথে হাঁটলেন। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘কালা হিরণ’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া যেন না হয়, সেই আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর আইনজীবীর বরাতে অভিযোগ, এই সিনেমা সমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কী নিয়ে বিতর্ক?

‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগাসি’ শিরোনামের সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ভরত এস. শ্রিনাথ। ছবিটির পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়, কারণ পোস্টারে সালমান খানের চরিত্রটি সহজেই চিহ্নিত করা যায়। অভিযোগ উঠেছে, ১৯৯৮ সালে জোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি তৈরি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশ ও প্রযোজকের জবাব

সালমান খানের আইনজীবী ইতিমধ্যে সিনেমার সঙ্গে জড়িত প্রযোজক, পরিচালক ও পরিবেশকদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে প্রযোজক অমিত জানি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, “সিনেমাটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য তৈরি হয়নি। এটি নির্মাণ করা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ও আদালতের নথিভুক্ত ঘটনার ভিত্তিতে। বাস্তব ঘটনা নিয়ে সিনেমা নির্মাণের অধিকার আমাদের আছে।”

প্রযোজক আরও বলেন, ছবিটি কাউকে অপমান নয়, বরং সংবাদ প্রতিবেদন, আদালতের রায় ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে নির্মিত একটি ক্রাইম থ্রিলার ও কোর্টরুম ড্রামা।

১৯৯৮ সালের হরিণ শিকার মামলা কী?

১৯৯৮ সালে রাজস্থানের জোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যাঁয়’ ছবির শুটিংয়ের সময় কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় কেবল তিনিই নন, আরও বেশ কয়েকজন নামী অভিনেতা অভিযুক্ত হন—তাঁরা হলেন সাইফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, তাবু, নীলম এবং স্থানীয় এক ব্যক্তি দুষ্যন্ত সিং।

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল জোধপুরের জেলা আদালত সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে বাকি অভিযুক্তদের খালাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সালমান জামিনে মুক্তি পান। ২০২২ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট মামলাটি নিজের এখানে স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়। এখন শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

সালমানের শঙ্কা কী?

সালমান খানের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘কালা হিরণ’ সিনেমা প্রকাশিত হলে দর্শকদের মনে ভুল বার্তা যেতে পারে। এর ফলে সমাজে নায়কের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এখন বিচারাধীন মামলাটিও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে, সিনেমায় সালমান ও গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের লড়াই দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। লরেন্স বিষ্ণোই দীর্ঘদিন ধরেই বন্যপ্রাণ শিকারের মামলায় সালমানের বিরুদ্ধে সরব।

কবে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ছবিটি?

আগামী ২০ জুন ‘কালা হিরণ’–এর টিজার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেটি এখন অনিশ্চিত। প্রযোজক জানিয়েছেন, তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং যথাসময়ে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। সালমান পক্ষ অবশ্য মুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতের নির্দেশনা কামনা করছেন।

কোরআনের নির্দেশনা কী বলে?

পবিত্র কোরআনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তির সম্মান রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূরা হুজুরাতে (৪৯:১২) বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয় কোনো অনুমান পাপের কারণ হয়। আর গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না।” সেইসঙ্গে কোনো বিষয়ে বিচার করার আগে সব তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে সালমান খান আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের পক্ষে সওয়াল করছেন, আবার প্রযোজক দাবি করছেন বাস্তব ঘটনা নিয়ে তথ্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। কোরআনের আলোকে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তির ইজ্জত-আব্রু ও আইনগত অধিকারের বিষয়ে সতর্ক হওয়া ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই কর্তব্য।

এই ঘটনা এখন বলিউড ও আইনমহলে ব্যাপক আলোচিত। সালমান সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তাঁকে বারবার পুরনো মামলা টেনে আনার পিছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অন্যদিকে সিনেমাপ্রেমীরা জানতে চাইছেন, শেষ পর্যন্ত আদালত এই বিবাদে কী সিদ্ধান্ত দেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আদালতের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও