বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর হুঁশিয়ারি (ডিএসসিসি): ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল নিলে লাইসেন্স বাতিল
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় কিংবা নিয়মিত ময়লা অপসারণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় বর্জ্য সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগরীর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিটি বাসা বা ফ্ল্যাট থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নির্ধারিত ফি হিসেবে আদায় করতে হবে এবং তা অবশ্যই বৈধ রশিদের মাধ্যমে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
সভায় “দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ” নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকা বরদাশত করা হবে না বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিন দিনের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না; প্রতিটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
প্রশাসক আরও নির্দেশ দেন, পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়।
নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিপাটি পোশাকে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না রেখে যত্রতত্র ফেলা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষে প্রশাসক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু একটি সেবামূলক কাজ নয়; এটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্বেরও অংশ। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।