×
×
Thursday, 29 October, 2026, 12:17 pm


প্রশ্ন:রাসূল (সা.) কিসের অনুসরণ করতেন?

লেখক ও গবেষকঃ বারাকাতুল্লাহ

কুরআনের আয়াতের আলোকে একটি পর্যালোচনা
➖

উত্তর: একমাত্র কুরআনের অনুসরণ করতেন।

ইসলামের মূল চেতনা হলো আত্মসমর্পণ।
আর এই আত্মসমর্পণের একমাত্র মানদণ্ড হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত ওহী ( বার্তা)।
স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন নিজের খেয়াল-খুশি বা মানুষের মনগড়া মতবাদের পরিবর্তে কেবল ওহীর ( আল্লাহর বাণীর) অনুসরণ করতে।
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরায় বারবার এই ঘোষণা এসেছে যে, দ্বীনের ( আল্লাহর দেয়া বিধানের) পথে রাসূল (সা.)-এর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ওহী ( আল্লাহর বাণী) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
এটি আমাদের জন্য শিক্ষা দেয় যে, প্রকৃত হাদায়াত ( পথনির্দেশ) কেবল আল্লাহর কিতাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কুরআন থেকে প্রাসঙ্গিক আয়াত সমূহ
➖
১.” বলুন, আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার নিকট আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ আছে, আর আমি গায়েবও জানি না এবং তোমাদেরকে এও বলি না যে, আমি ফিরিশতা ।
আমার প্রতি যা ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়, আমি তো শুধু তারই অনুসরণ করি।
বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না? ”

( সূরা আন’আম আয়াত ৫০ )

২. ” তুমি অনুসরণ কর তার, তোমার প্রতি যা ওহী প্রেরণ করা হয়েছে তোমার রবের ( পালনকর্তার) পক্ষ থেকে।
তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর মুশরিকদের থেকে তুমি বিমুখ থাক। ”

(সূরা আন’আম আয়াত ১০৬ )

৩. ” আর যখন তুমি তাদের নিকট কোন আয়াত নিয়ে না আস, তখন তারা বলে, ‘তুমি কেন নিজেই তা বানিয়ে নাও না?’
বলুন , ‘আমিতো তারই অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আমার রবের পক্ষ থেকে ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।
এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ।
আর তা হিদায়াত ও রহমত ( অনুগ্রহ) সে সম্প্রদায়ের জন্য ,যারা ঈমান ( বিশ্বাস ) আনে’। ”

( সূরা আল-আ’রাফ আয়াত ২০৩ )

৪. ” আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াত( বিধান) সমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন, যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, তারা বলে, ‘এটি ছাড়া অন্য কুরআন নিয়ে এসো। অথবা একে বদলাও’।

বলুন , ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তনের অধিকার নেই।
আমি তো শুধু আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর অনুসরণ করি।

নিশ্চয় আমি যদি রবের অবাধ্য হই তবে ভয় করি কঠিন দিনের শাস্তির ।”

( সূরা ইউনুস আয়াত ১৫ )

৫ . ” তোমার নিকট যে ওহী অবতীর্ণ করা হয়েছে তুমি তার অনুসরণ কর আর তুমি ধৈর্য্য অবলম্বন কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ ফায়সালা প্রদান করেন। বস্তুতঃ তিনিই হলেন সর্বোত্তম ফায়সালাকারী। ”

( সূরা ইউনুস আয়াত ১০৯ )

৬. ” বলুন , ‘আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন নই।
আর আমি জানি না আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হবে।
আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।
আর আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র । ”

( সূরা আল-আহকাফ আয়াত ৯ )

৭. ” আর সে মনগড়া কথা বলে না। তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। ”

( সূরা আন-নাজম আয়াত ৩-৪)

৮. ” আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল ( অবতীর্ণ ) করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর তদারককারীরূপে।
সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তুমি তার মাধ্যমে বিচার ফয়সালা কর এবং তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ত্যাগ করে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না।

তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ( বিধান পালনের পদ্ধতি) ও স্পষ্ট পন্থা এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন।
কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা ভাল কাজে প্রতিযোগিতা কর।
আল্লাহরই দিকে তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তনস্থল।
অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন, যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে। ”

(সূরা আল-মাইদাহ আয়াত ৪৮)

উপরের আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, দ্বীন ( জীবন বিধান) কোনো অনুমান বা ব্যক্তিগত দর্শনের নাম নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও ওহীর নির্দেশনার বাইরে কিছুই করতেন না।
সুতরাং, একজন মুমিন ( বিশ্বাসী) হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
মনগড়া মতবাদ বর্জন করে কেবল ওহীর আলোকবর্তিকা অনুসরণ করার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে মুক্তি সম্ভব।

অন্যের কাছে দাওয়াতের আহ্বান:

📖 আল্লাহ বলেন:
“তোমাদের মধ্যে যেন এমন একটি দল থাকে, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে—তারাই সফলকাম।”
— সূরা আলে ইমরান আয়াত ১০৪ ।

অন্য সূরায় আল্লাহ বলেন,

“সময়ের কসম!
নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে—
তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সত্যের উপদেশ দেয় এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয়।”

— সূরা আল-আসর আয়াত ১-৩ ।

আসুন—কুরআন নিজে জানি, অন্যকে জানাই, ওহীর পথে চলি।

[atn_photocard]
আরও