ঢাকায় ব্রয়লার–সোনালির দামে অস্থিরতা: মধ্যবিত্তের পাতে বাড়তি চাপ
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম একযোগে ঊর্ধ্বমুখী ও অস্থির। নির্বাচন-পরবর্তী সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, মৌসুমি চাহিদা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
বাজারের বর্তমান চিত্র
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই ধরনের মুরগির দামে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
বর্তমান খুচরা মূল্য (ফেব্রুয়ারি ২০২৬):
| মুরগির প্রকার | সর্বনিম্ন (টাকা/কেজি) | সর্বোচ্চ (টাকা/কেজি) |
|---|---|---|
| ব্রয়লার | ১৭০ | ২১০ |
| সোনালি | ২৯০ | ৩৪০ |
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রয়লারের দাম সাধারণত ১৮০ টাকার আশপাশে থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় তা অনেক স্থানে ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। অন্যদিকে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসের তুলনায় ২০–৪০ টাকা বেশি।
ক্রয়ক্ষমতার সংকোচন
বাজারে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ক্রেতাই এখন সোনালি বাদ দিয়ে ব্রয়লারের দিকে ঝুঁকছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজার–এর এক ক্রেতা বলেন, “সোনালির দাম শুনলেই পিছিয়ে আসতে হয়। ওই দামে প্রায় দুই কেজি ব্রয়লার পাওয়া যায়।”
ব্যবসায়ীরা জানান, সোনালি মুরগির চাহিদা এখন মূলত পিকনিক, বনভোজন বা বিশেষ আয়োজনে সীমাবদ্ধ। দৈনন্দিন রান্নায় এর ব্যবহার কমেছে। অনেকে মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন, যা বর্তমানে ডজনপ্রতি ১১০–১১৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
কেন বাড়ছে দাম?
১. নির্বাচন-পরবর্তী সরবরাহ সংকট
নির্বাচন ঘিরে টানা ছুটি ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ির কারণে ঢাকার পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে যায়। দৈনিক ইত্তেফাক–এর সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের পরপরই কেজিপ্রতি ১০–২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যায়।
২. মৌসুমি চাহিদা
শীতের শেষ ভাগ ও বসন্তের শুরুতে সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় সোনালি মুরগির চাহিদা বাড়ে। পাশাপাশি আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে আগাম চাহিদাও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
৩. উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়
খামারিদের দাবি, ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ওষুধ ও পরিবহন খরচও বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত খুচরা দামে যুক্ত হচ্ছে।
৪. সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়। নির্বাচনের সময় পরিবহন সমস্যাকে কেন্দ্র করে এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামনে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রয়লারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও ২০০ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে সোনালি মুরগি ইতোমধ্যে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যেতে শুরু করেছে। রমজান ঘিরে চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।
করণীয়
স্বল্পমেয়াদে:
-
বাজার তদারকি জোরদার করা
-
সরবরাহ ও পরিবহন স্বাভাবিক রাখা
দীর্ঘমেয়াদে:
-
পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ
-
উৎপাদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সাধারণ ভোক্তার জন্য অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে। কার্যকর নজরদারি ও নীতিগত সমন্বয় না হলে আগামী মাসগুলোতে মুরগির মাংস আরও বেশি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।