ঈমান ছাড়া কোনো সৎকর্ম পরকালে গ্রহণীয় নয়
ঈমান ও সৎকর্ম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য; কোরআনের অসংখ্য আয়াতে এই সত্য বহুবার ঘোষিত হয়েছে। কোনো সৎকর্ম তখনই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা প্রকৃত ঈমানের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়।
পবিত্র কোরআনের ঘোষণা স্পষ্ট শুধু দাবি করলেই ঈমান প্রমাণিত হয় না, বরং তার প্রতিফলন ঘটতে হয় বাস্তব কর্মে। ঈমান যেমন অন্তরের বিশ্বাস, তেমনই সৎকর্ম তার বহিঃপ্রকাশ। একে অপরের পরিপূরক, যা পরকালীন মুক্তির মূল চাবিকাঠি ।
ঈমান ও সৎকর্ম: একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে ঈমান ও সৎকর্ম একসঙ্গে উল্লেখিত হয়েছে। সূরা আত-তালাকের ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “একজন রাসূল তোমাদের কাছে আল্লাহর স্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, যাতে তিনি তাদের বের করে আঁধার থেকে আলোতে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। আর যে আল্লাহতে ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিচে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন” ।
ঈমান হলো বৃক্ষের মূল এবং সৎকর্ম তার ফল। যখন ফল মিষ্টি ও রসালো হয়, তখন বুঝতে হয় মূল সুস্থ ও সবল । অন্তরে ঈমান প্রতিষ্ঠিত হলে তার প্রভাব চোখ, কান, জিহ্বা, হাত ও চিন্তায় প্রকাশ পায়। একজন মুমিন ব্যক্তি তার ঈমান ও বিশ্বাসের বিপরীতে কোনো কাজ করে না ।
ঈমানবিহীন সৎকর্ম কেন গ্রহণযোগ্য নয়?
যাদের প্রকৃত ঈমান নেই, তারা মাঝেমধ্যে ভালো কাজ করতে পারে, তবে তা অস্থায়ী। সৎকর্মকে স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে অন্তরের গভীরে প্রোথিত ঈমান । ঈমান ছাড়া সৎকর্ম যেমন সুচের ছিদ্র ছাড়া সুতার মতো দ্বারা বস্তু সেলাই করা অসম্ভব ।
ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুসলিম সম্প্রদায় ঈমান ও কর্মের এই অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পোষণ করতেন। তারা জানতেন যে তাদের কর্তব্য হলো ঈমান আনা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে সেই অনুযায়ী কাজ করা। এই দায়িত্ববোধ তাদের আইনের যান্ত্রিক আনুগত্য থেকে নৈতিক কর্মকাণ্ডের স্তরে উন্নীত করে ।
কোরআনের আলোকে ঈমান ও সৎকর্মের মর্যাদা
আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই সম্মানজনক স্থান। সূরা আন-নূরের ৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তোমাদের মধ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে শাসক করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের শাসক করেছিলেন” ।
পরকালীন মুক্তির জন্য ঈমান ও সৎকর্ম উভয়ই আবশ্যক। শুধু ঈমানের দাবি করলে বা শুধু সৎকর্ম করলে তা যথেষ্ট নয় ঈমানের সঙ্গে সৎকর্মের সমন্বয় ঘটাতে হবে। ঈমান ও সৎকর্মের এই সহাবস্থানই মুমিনের পরিচয় এবং পরকালীন সাফল্যের মূলমন্ত্র ।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা স্পষ্ট ঈমান ব্যতীত কোনো সৎকর্ম পরকালে গ্রহণযোগ্য হবে না। ঈমান ও সৎকর্ম পরস্পর পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য। ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, আর সৎকর্ম তার বাহ্যিক প্রকাশ। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে এই উভয় উপাদানের সমন্বয় আবশ্যক। আখিরাতে সফলতা ও জান্নাত লাভের জন্য ঈমান ও সৎকর্মের এই সমন্বিত পথই একমাত্র পথ।