×
×
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ


বেসরকারি ল্যাবে রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিল এনবিআর: বাণিজ্য সহজীকরণে নতুন দিগন্ত

আমদানি পণ্য খালাসে জটিলতা কমাতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, গতি পাবে দেশের বাণিজ্য।
আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি এখন থেকে স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। ফলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর মাধ্যমে রফতানি-আমদানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও গতি দুটোই বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, আমদানি নীতি আদেশের শর্ত পরিপালন এবং আমদানিকারকের ঘোষিত পণ্যের সঠিকতা যাচাইয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত রাসায়নিক পরীক্ষা করে থাকে।

এখন পর্যন্ত এসব পরীক্ষা শুধু কাস্টমস ল্যাবরেটরি বা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ল্যাবে হতো। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পরীক্ষার ফল পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত যার জের ধরে পণ্য খালাসেও বিলম্ব হতো। আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতেই এবার বেসরকারি ল্যাবকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

কোন ল্যাবে পরীক্ষা হবে?

এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং আন্তর্জাতিক মান সংস্থা আইএসও কর্তৃক স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও আমদানি করা পণ্যের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো যাবে। এসব ল্যাবের পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পণ্যের শুল্কায়ন করা হবে।

শর্তও আছে

বাণিজ্য সহজীকরণের এই উদ্যোগের সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে এনবিআর। সেগুলো হলো:

· বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোকে বিএবি অনুমোদিত পরীক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

· আমদানি নীতি আদেশে যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ল্যাবরেটরির নাম উল্লেখ রয়েছে (যেমন: ঔষধ, খাদ্য, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি), সে সব পণ্যের বেলায় এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত ল্যাবেই নমুনা পাঠাতে হবে।

ব্যবসায়ী মহলে প্রতিক্রিয়া

বাণিজ্য সহজীকরণে এনবিআরের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা মনে করছেন, পণ্য খালাসে বিলম্ব ও জটিলতা কমিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় স্বল্প সময়ে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেলে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি পণ্যের দ্রুত খালাস সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়। পাশাপাশি বন্দরগুলোর ভিড় কমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতাসক্ষমতাও বাড়ে।

এনবিআরের এ উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি দেশের আমদানি-নির্ভর শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও