রিহ্যাবের এজিএম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রিহ্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১২টি অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে অভিযোগগুলোর অধিকতর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, রিহ্যাবের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে ৩০ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধিকতর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে নির্দেশক্রমে রিহ্যাবের আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে রিহ্যাবও সদস্যদের উদ্দেশে পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী শনিবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সাধারণ সভা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বার্ষিক সাধারণ সভার নতুন স্থান, তারিখ ও সময় পরে সদস্যদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে রিহ্যাবের সহসভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির বিভিন্ন অনিয়ম ও সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্থাপিত ১২টি অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের (বাণিজ্য সংগঠন) সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির আগে জারি করা নোটিশে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিরোধপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য রিহ্যাবের সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।
রিহ্যাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল থেকে ২ কোটি টাকা ব্যয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, এজিএমের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতকরণ, গোপনীয় তথ্য প্রকাশ, রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬ আয়োজন, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলুপ্ত, সরকারি পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব, সভাপতির পক্ষপাতমূলক আচরণ, সদস্য উন্নয়ন কমিটিতে পরিচালকদের অন্তর্ভুক্ত না করা, সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব প্রদান না করা এবং পরিচালনা পর্ষদের সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম।