×
×
Thursday, 30 July, 2026, 1:44 pm


জিহ্বা: নিয়ন্ত্রণে থাকলে জান্নাত, বেয়াড়া হলে জাহান্নাম

আল্লাহর অপার নেয়ামত এই অঙ্গই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও চরম ধ্বংসের কারণ হতে পারে

পবিত্র কুরআনে জিহ্বাকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র মাংসপিণ্ডের সঠিক ব্যবহার মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, আর অসাবধানতা তাকে নিয়ে যায় ধ্বংসের পথে।

মানবদেহের ক্ষুদ্র অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী এই অঙ্গটি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করেছি কি আমরা? জিহ্বা আকারে ছোট হলেও এটি আল্লাহ তাআলার এক অপার নেয়ামত এবং তাঁর সৃষ্টি কৌশলের অনন্য নিদর্শন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আমি কি তার জন্য দুটি চোখ বানাইনি? আর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট!” (সূরা আল-বালাদ, ৯০:৮-৯) । এই একটি আয়াতেই জিহ্বার গুরুত্ব ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঈমান ও কুফরির মাধ্যম

মুমিনের ঈমানরূপ শ্রেষ্ঠ নেয়ামত প্রকাশ পায় এই জিহ্বার মাধ্যমেই। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর কালিমা উচ্চারণের মাধ্যমেই মানুষ হয়ে ওঠে মুমিন। অন্যদিকে, কুফরি ও শিরকের মতো সর্বনাশা পরিণতিও প্রকাশ পায় এই জিহ্বা দ্বারাই। অর্থাৎ ঈমান-ইবাদত, আনুগত্য ও আল্লাহর বিধান পালনের ক্ষেত্রে জিহ্বার ভূমিika যেমন ব্যাপক, তেমনি পাপাচার ও অনাচারের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা সর্বাধিক।

সকল কিছুর প্রকাশক

জিহ্বার বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের উপলব্ধির সকল কিছুই প্রকাশ করতে পারে। চোখ শুধু বস্তুর রং ও আকৃতি দেখতে পায়, কান শুধু শব্দ শুনতে পায়, হাত শুধু স্পর্শ করতে পারে। কিন্তু জিহ্বা এসবের বাইরে গিয়ে মানুষের জ্ঞান, চিন্তা, অনুভূতি সত্য হোক বা মিথ্যা সবকিছুই উচ্চারণ করতে পারে ।

কল্যাণ ও অকল্যাণের দ্বার

এই জিহ্বাই মানুষকে অন্তহীন সৌভাগ্যের অধিকারী করতে পারে আবার চরম ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করতে পারে। যে ব্যক্তি জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না, শয়তান তার মুখ দিয়ে কী কী বলিয়ে তাকে জাহান্নামের কোন পথে নিয়ে যাবে, তার কোনো ঠিকানাই নেই।

জিহ্বা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিহ্বার ক্ষতি থেকে কেবল তারাই বাঁচতে পারে, যারা একে আল্লাহর বিধানের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখে। যখনই জিহ্বা দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণকর কথা বলে, তখনই তাকে মুক্তি দিতে হবে। তবে কোন্ কথাটি ভালো আর কোন্টি মন্দ, কোন্ সময় কথা বলা উচিত আর কোন্ সময় চুপ থাকা উচিত তা চিহ্নিত করা যেমন দুরূহ, তেমনি তা মেনে চলা আরও কঠিন।

মানব অঙ্গের মধ্যে জিহ্বাই সবচেয়ে বেশি অবাধ্যতা করে। কারণ এটি অতি সহজেই সঞ্চালনযোগ্য এবং এতে কোনো কষ্ট হয় না। মানুষ জিহ্বার ক্ষতিকে সামান্য মনে করে এর ব্যাপারে উদাসীন থাকে। অথচ শয়তান মানুষকে বিপথগামী করার প্রধান অস্ত্র হিসেবে এই জিহ্বাকেই ব্যবহার করে।

চুপ থাকার ফজিলত

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেছেন, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে না এলে চুপ থাকাই উত্তম। কেননা চুপ থাকা মানুষকে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করে। সুন্দর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর কথা বলা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জিহ্বা

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, জিহ্বা শুধু স্বাদের অঙ্গই নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও সূচক। জিহ্বার রং, গঠন ও অবস্থা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে। একজন সুস্থ মানুষের জিহ্বা হয় গোলাপি রঙের। জিহ্বায় সাদা প্রলেপ, লাল দাগ বা কালো রং বিভিন্ন সংক্রমণ বা পুষ্টিহীনতার ইঙ্গিত দেয়।

পরিশেষে

জিহ্বা আল্লাহর অমূল্য নেয়ামত। এই নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার আমাদের জন্য কল্যাণকর, আর অপব্যবহার ধ্বংস ডেকে আনে। পবিত্র কুরআনে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষের প্রতিটি কথাই লেখা হচ্ছে । তাই আমাদের উচিত জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তা দিয়ে শুধুমাত্র সত্য ও কল্যাণকর কথা বলা।

আরও