×
×
Saturday, 31 October, 2026, 12:21 am


বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার

মোট রিজার্ভ বেড়েছে ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি, আইএমএফ পদ্ধতিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৪ হাজার ৫৩৯ মিলিয়ন (৩৪.৫৩ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার এই ভাণ্ডার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান শুক্রবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস (মোট) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৯.০৮ মিলিয়ন ডলার।** আগের দিন ২০ মে পর্যন্ত এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৩৭৬.৫৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানেই রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১৬২.৫৫ মিলিয়ন ডলার।

আইএমএফ পদ্ধতিতে কত রিজার্ভ?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘বিপিএম-৬’ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল-৬) পদ্ধতি অনুযায়ী বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে **২৯ হাজার ৮৭৯.৫০ মিলিয়ন ডলার।** ২০ মে এই পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৭১৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার।

গ্রস রিজার্ভ ও নিট রিজার্ভের পার্থক্য

উল্লেখ্য, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলেই প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য দায় এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

কেন বাড়ছে রিজার্ভ?

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা কমে আসায় রিজার্ভের ওপর চাপ কমেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ ও আইএমএফের শর্ত পূরণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

অর্থনীতির জন্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে রিজার্ভ বৃদ্ধি?

রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বাড়ায়। প্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি আমদানি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতির আস্থা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান, যা আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবণতা বজায় থাকলে এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা, ডলার সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় রেখে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

সংক্ষেপে তথ্য:
– গ্রস রিজার্ভ (২১ মে): ৩৪,৫৩৯.০৮ মিলিয়ন ডলার

– নিট রিজার্ভ (বিপিএম-৬): ২৯,৮৭৯.৫০ মিলিয়ন ডলার

– এক দিনে গ্রস রিজার্ভ বৃদ্ধি: প্রায় ১৬২.৫৫ মিলিয়ন ডলার

– তথ্য প্রদানকারী: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

[atn_photocard]
আরও