×
×
Thursday, 29 October, 2026, 12:18 pm


এ বছর ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে মিলবে “কৃষক কার্ড”- কৃষিমন্ত্রী

পাইলট পর্যায়ে প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ কৃষক; ১ অক্টোবর ১ লাখ ৪৭ জন পাবেন ২,৫০০ টাকা করে প্রণোদনা

 

দেশের কৃষকদের সরকারি সহায়তা আরও সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান কর্মসূচির প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রথম ধাপে কার্ড পাবেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ কৃষক

মন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে এ বছর ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কর্মসূচির আওতায় আসছেন।

এর মধ্যে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে ছাপানো কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।

যুক্ত থাকবে ৫৬ জেলা ও ৭৭ উপজেলা

কৃষক কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে এবং বাকি ৬৪টি উপজেলাও কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আরও বেশি কৃষককে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যেই ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিন বছরের মধ্যে সব কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছানোর পরিকল্পনা

শুধু চলতি বছরেই ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কৃষক কার্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে কৃষকদের সহায়তা করা এবং সরকারি প্রণোদনা ও অন্যান্য কৃষিসেবা আরও সহজে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

সরকারি সহায়তা পৌঁছাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে

কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা দিতে গিয়ে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও সঠিক কৃষক শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃষক কার্ডভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা পরিকল্পিতভাবে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে—এমন লক্ষ্য নিয়েই কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রস্তুতি সন্তোষজনক, বলছে প্রশাসন

ফেনীতে কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।

এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য তথ্য:

✅চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা: ৪৩ লাখ কৃষক

✅প্রথম ধাপে: ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ কৃষক

✅১ অক্টোবর প্রণোদনা: ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক

✅প্রণোদনার পরিমাণ: কৃষকপ্রতি ২,৫০০ টাকা

✅ফেনীতে ছাপানো কার্ড: ৭,৬৪৩ জন কৃষক

✅পাইলট অনুষ্ঠানে যুক্ত: ৫৬ জেলা ও ৭৭ উপজেলা

✅দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষককে কার্ডের আওতায় আনা।

 

সূত্র: বাসস,

[atn_photocard]
আরও