×
×
Tuesday, 27 October, 2026, 9:27 am


AI যুগে কি ৩০ কোটি চাকরি হারাবে বিশ্ব?

অটোমেশনে চাকরি হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই দক্ষতা বদলের সময়, ভয় নয় বাংলাদেশের যুবকদের সামনে নতুন আয়ের দুয়ার!

বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং অটোমেশনের প্রভাবে আগামী কয়েক বছরে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি পূর্ণকালীন চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার গল্প নয়, বরং কাজের ধরন বদলে যাওয়ার গল্প। যারা নিজেদের প্রস্তুত করবে, তাদের জন্য তৈরি হবে হাজারো নতুন আয়ের সুযোগ।

কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি

গবেষণা অনুযায়ী, সব চাকরি সমান ঝুঁকিতে নেই। যে কাজগুলোতে একই ধরনের কাজ বারবার করতে হয়, সেগুলোতেই AI সবচেয়ে দ্রুত মানুষের জায়গা নিতে পারে।

প্রশাসনিক সহায়তা, ডাটা এন্ট্রি, কল সেন্টার, অনুবাদ, বেসিক কন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক ডিজাইনের প্রাথমিক কাজ এবং আইন ও হিসাবের সাধারণ বিশ্লেষণ এই তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪২ শতাংশ ব্যবসায়িক কাজ অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

ভয়ের বিপরীতে নতুন সম্ভাবনা

ইতিহাস বলে, প্রযুক্তি কখনোই চাকরি পুরোপুরি শেষ করে দেয় না। এটি পুরনো চাকরি কমিয়ে নতুন চাকরি তৈরি করে। AI এর কারণেও একই ঘটনা ঘটবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, AI এবং অটোমেশনে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ নতুন পদের সৃষ্টি হবে।

এই নতুন পদের মধ্যে রয়েছে AI ট্রেইনার, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, ডাটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট, ভিডিও এডিটর, এবং AI টুল ব্যবহার করে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ, যিনি AI ব্যবহার করতে জানবেন, তিনি AI এর কারণে চাকরি হারাবেন না।

বাংলাদেশের যুবশক্তির জন্য করণীয়

বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটির বেশি কর্মক্ষম তরুণ রয়েছে। এই বিশাল জনশক্তিকে যদি AI যুগের জন্য তৈরি করা না যায়, তবে বেকারত্বের ঝুঁকি বাড়বে। আর তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং হাব।

এ জন্য চারটি দক্ষতার উপর জোর দেওয়া জরুরি।

১. AI লিটারেসি: ChatGPT, Midjourney, Gemini এর মতো টুলগুলো কীভাবে ব্যবহার করে দ্রুত কাজ করা যায়, তা শিখতে হবে। শুধু ব্যবহার নয়, সঠিক প্রম্পট লেখার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে।

২. ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সৃজনশীলতা: AI তথ্য দিতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যে তরুণ সমস্যা সমাধান করতে পারে এবং নতুন আইডিয়া দিতে পারে, তার চাহিদা কখনো কমবে না।

৩. ডাটা ও টেকনিক্যাল স্কিল: বেসিক কোডিং, পাইথন, ডাটা অ্যানালাইসিস, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ভিডিও প্রোডাকশনের মতো কারিগরি দক্ষতা এখন অপরিহার্য।

৪. সফট স্কিল: যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তা এমন গুণ যা কোনো মেশিন সহজে নকল করতে পারে না।

সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

শুধু তরুণদের একার চেষ্টায় এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে AI ও অটোমেশন বিষয় যুক্ত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে হাইটেক পার্কের মাধ্যমে বিনামূল্যে AI প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ পেমেন্ট সিস্টেম এবং স্টার্টআপের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, AI আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, এটি আমাদের সহকারী। যারা আজ থেকে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে শুরু করবে, AI যুগে তারাই নেতৃত্ব দেবে। তাই চাকরি হারানোর ভয়ে পিছিয়ে না থেকে, নতুন আয়ের পথ তৈরির এখনই সময়।

আরও