×
×
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ


কোরআনের মুহকাম ও মুতাশাবিহ আয়াতঃ সঠিক পদ্ধতি ও ভ্রান্ত পথ

هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ مِنۡهُ ءَايَٰتࣱ مُّحۡكَمَٰتٌ هُنَّ أُمُّ ٱلۡكِتَٰبِ وَأُخَرُ مُتَشَٰبِهَٰتࣱۖ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمۡ زَيۡغࣱ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَٰبَهَ مِنۡهُ ٱبۡتِغَآءَ ٱلۡفِتۡنَةِ وَٱبۡتِغَآءَ تَأۡوِيلِهِۦۖ وَمَا يَعۡلَمُ تَأۡوِيلَهُۥٓ إِلَّا ٱللَّهُۗ وَٱلرَّٰسِخُونَ فِي ٱلۡعِلۡمِ يَقُولُونَ ءَامَنَّا بِهِۦ كُلࣱّ مِّنۡ عِندِ رَبِّنَاۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ

তিনিই তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে। আল ‘ইমরান ৩:৭

পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এ গ্রন্থের কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট (মুহকাম) এবং কিছু আয়াত অর্থগত দিক থেকে বহুমুখী বা গভীর রহস্যপূর্ণ (মুতাশাবিহ)। আলি ‘ইমরান ৩:৭ আয়াত এ প্রসঙ্গে মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

মুহকাম আয়াত: কিতাবের মূল ভিত্তি
আল্লাহ বলেন, এসব আয়াত কিতাবের ‘উম্মুল কিতাব’ (মূল বা ভিত্তি)। এগুলো স্পষ্ট, দৃঢ় ও সহজবোধ্য; যেমন: ইবাদতের নির্দেশ, হারাম-হালালের বিধান, মৌলিক বিশ্বাস ও নৈতিক শিক্ষা। এগুলোর কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই বরং এগুলো অনুসরণ করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

মুতাশাবিহ আয়াত: গভীরতা ও পরীক্ষা
অন্য কিছু আয়াত আপাতদৃষ্টিতে স্পষ্ট নয়, বরং এতে রূপক, লাক্ষণিক বা কালক্ষেপে প্রকাশিত রহস্য থাকতে পারে। যেমন: কেয়ামতের ঘটনা, আত্মার প্রকৃতি বা আল্লাহর সিফাতের কিছু বর্ণনা।

আয়াতের সতর্কবাণী:
যাদের অন্তরে সত্যবিমুখ প্রবণতা ও বিপথগামী মানসিকতা থাকে, তারা

১. ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে: বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।

২. ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে: নিজের বানোয়াট অর্থে আয়াতকে পেঁচিয়ে নেয়।
তারা কেবল মুতাশাবিহ আয়াতকে ধরে, মুহকাম আয়াত উপেক্ষা করে।

আল্লাহ ছাড়া এর পূর্ণ ব্যাখ্যা কেউ জানে না:
আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। এটি একটি স্টপ সাইন। অর্থাৎ মুতাশাবিহ আয়াতের চূড়ান্ত ও প্রকৃত তাৎপর্য একমাত্র আল্লাহ জানেন। বান্দার কর্তব্য হলো সেগুলোকে অপরিবর্তিতভাবে মেনে নেওয়া, সন্দেহ-বাতিল বা কাল্পনিক ব্যাখ্যা দেওয়া নয়।

জ্ঞানবান মুমিনদের অবস্থান:
যারা জ্ঞানে পরিপক্ব তারা বলে: “আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে।” তারা মুহকাম ও মুতাশাবিহ, উভয় প্রকার আয়াতকেই আল্লাহর বাণী বলে মেনে নেয় এবং কোনো বিরোধ দেখে না।

কোরআনের নির্দেশনাঃ
১. মুহকাম আয়াতের ওপর দৃঢ় থাকা এটাই জীবনচর্চার মূলভিত্তি।

২. মুতাশাবিহ আয়াতের পেছনে না ছুটে এগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহর কাছে প্রকৃত ব্যাখ্যা সোপর্দ করা।

৩. যে কোনো আয়াত অথবা ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে মুহকামের আলোকে যাচাই করা, কেননা ভুল ব্যাখ্যা ও ফিতনা সৃষ্টিকারীরা সবসময় সন্দেহসৃষ্টিকারী অংশ লিপিবদ্ধ করে।

বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা বুঝে নেয়: কোরআনের সবকিছুই সামঞ্জস্যপূর্ণ; আপাত দ্বন্দ্ব শুধু মানুষের সীমিত জ্ঞানের কারণে। তাই নিরাপদ পথ হলো মুহকাম মানা, মুতাশাবিহতে ঈমান আনা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা।

আরও