×
×
Thursday, 29 October, 2026, 1:45 pm


হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তিঃ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর

যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত পটভূমিঃ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। ইরান পাল্টা জবাবে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়।

প্রায় ৫ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে (ইরানে কয়েক হাজার, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে শত শত) এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সামরিক স্থাপনা, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, সেতু ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরান হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সাম্প্রতিক উন্নয়নঃ

– **ট্রাম্পের হুমকি ও ডেডলাইন**: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ এপ্রিল রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত ডেডলাইন দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতে মরে যাবে”।

– **ইরানের প্রতিক্রিয়া**: ইরান প্রথমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ী সমাধান চায়। তবে ৭-৮ এপ্রিলে পরিস্থিতি বদলায়।

– **দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি**: ৭ এপ্রিল রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এতে ইরান হরমুজ প্রণালি নিরাপদে খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হামলা বন্ধ হলে আমরা যুদ্ধবিরতি মেনে নেব”। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছে এবং আলোচনা শুরু হবে ইসলামাবাদে।

– **ইসরাইলের ভূমিকা**: যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলও অন্তর্ভুক্ত। তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে, যা ইসরাইল আটকে দিয়েছে।

বর্তমান অবস্থা:

– যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য সব হামলা স্থগিত রেখেছে।
– হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি আনবে।
– ইরাকে উদযাপন শুরু হয়েছে, কারণ ইরাকও যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
– আলোচনা চলছে: শুক্রবার থেকে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু হবে। চীনও কূটনৈতিক চাপ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
– তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রভাব
– **মানবিক**: ইরানে হাজার হাজার নিহত, লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত। লেবাননেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

– **অর্থনৈতিক**: হরমুজ বন্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, এশিয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

– আঞ্চলিক – হিজবুল্লাহ ও হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বেড়েছে।

যুদ্ধবিরতি একটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী শান্তি নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনার ওপর। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

[atn_photocard]
আরও