×
×
Sunday, 26 July, 2026, 8:32 am


মুত্তাকীদের চারটি গুণঃ

সূরা আলে ইমরানের ১৩৪ ও ১৩৫ নম্বর আয়াত দুটি হলো মুত্তাকীদের (আল্লাহভীরুদের) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এক উজ্জ্বল বর্ণনা। পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দুটিতে ধারাবাহিকভাবে চারটি মৌলিক গুণের উল্লেখ রয়েছে, যা একজন মুত্তাকীর পরিচয় বহন করে। নিম্নে কোরআনের আলোকে শুধুমাত্র এই আয়াত দুটির বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

প্রথম গুণ: সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা উভয় অবস্থায় ব্যয় করা

মুত্তাকীদের প্রথম গুণ হলো তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করেন। আয়াতে বলা হয়েছে, “যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে” [১] [২] । এটি শুধু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সময়েই দান-খয়রাত সীমাবদ্ধ নয়, বরং অভাবের সময়ও তারা আল্লাহর জন্য ব্যয় করতে দ্বিধাবোধ করেন না । এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরকারকগণ বলেছেন, এর মাধ্যমে দরিদ্র ব্যক্তিকেও আল্লাহর পথে ব্যয় করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। কম হোক বা বেশি হোক, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করার মানসিকতাই মুত্তাকীর পরিচয়। এটি এমন একটি অভ্যাস যা আর্থিক সংকটের সময়ও বিনষ্ট হয় না ।

দ্বিতীয় গুণ: ক্রোধ সংবরণ করা

মুত্তাকীদের দ্বিতীয় গুণ হলো তারা নিজেদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আয়াতে তাদেরকে “যারা ক্রোধ সংবরণকারী” [২] হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্রোধ এমন একটি মানবীয় আবেগ যা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। মুত্তাকীরা সেই আবেগকে বশে রাখেন এবং তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। তাফসীরে উল্লেখ আছে, ক্রোধ তাদেরকে উত্তেজিত করলে তারা তা কার্যকরী না করে সংবরণ করে নেয় । এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি উচ্চতর অবস্থান।

তৃতীয় গুণ: মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া

মুত্তাকীদের তৃতীয় গুণ হলো অপরের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া। আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, তারা “মানুষকে ক্ষমা করে থাকে” [২] । শুধু রাগ সংবরণ করাই নয়, বরং অন্যের কাছ থেকে কোনো অন্যায় বা ভুল হলে তা ক্ষমা করে দেওয়ার মানসিকতা তাদের বৈশিষ্ট্য। এই প্রসঙ্গে তাফসীরে বলা হয়েছে, তাদের সাথে কেউ অন্যায় করলে তারা তাকে ক্ষমা করে দেয় । এই ক্ষমার গুণই তাদেরকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।

চতুর্থ গুণ: ভুল স্বীকার করে তওবা করা এবং পাপে অটল না থাকা

মুত্তাকীদের চতুর্থ গুণটি ১৩৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তারা এমন লোক যারা “যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে বা নিজেদের উপর জুলুম করে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে” [১] [৩] [৪] । তারা জেনে-বুঝে ভুল কাজে অটল থাকে না । আয়াতটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরা হয়েছে যে, কে আল্লাহ ছাড়া পাপ ক্ষমা করতে পারে?

মুত্তাকীরা এই উপলব্ধি থেকেই সাথে সাথে তওবা করেন। তারা যা জানে না এমন অবস্থায় ভুল করে না, বরং ভুল হওয়ার পর সাথে সাথে তা সংশোধনের পথ খুঁজে নেয় ।

সূরা আলে ইমরানের এই আয়াত দুটিতে মুত্তাকীদের জন্য চারটি মৌলিক গুণের কথা বলা হয়েছে:
১. অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাবস্থায় দান করা,
২. ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা,
৩. অন্যের ভুল ক্ষমা করে দেওয়া, এবং
৪. ভুল করলে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পাপে অটল না থাকা।

এই চারটি গুণ মুত্তাকীদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা তাদের ইহকাল ও পরকাল উভয় স্থানেই সাফল্য এনে দেয়। কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাদেরকে মুহসিন (সৎকর্মশীল) পর্যায়ে উন্নীত করে, যাদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন।

আরও