×
×
Monday, 2 November, 2026, 5:09 am


ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সোমবার

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতে আগামীকাল সোমবার (৯ মার্চ) সংবাদ সম্মেলন করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অর্থমন্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এখন মন্ত্রী সুস্থ। তিনি রোববার (৮ মার্চ) থেকে আবার অফিস করছেন। আগামীকাল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই ধারণাকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু থাকলেও সমন্বয়ের অভাব, দ্বৈত সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের একটি অংশ বাদ পড়ার মতো সমস্যা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে এসব সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি)’ স্কোরিং পদ্ধতিতে। ০ থেকে ১০০০ স্কোরের ভিত্তিতে অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো পাইলট পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি সর্বোচ্চ ০.৫০ একর হলে তারা এ সুবিধার জন্য বিবেচিত হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী সদস্য, বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী পরিবার এবং বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে তারা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

কর্মসূচির আওতায় নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধান বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

একই স্মার্ট কার্ড ও ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তাও পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি এবং অন্যান্য সামাজিক ভাতাও এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার কথাও বলা হয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য দেশের যেসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানী এলাকার কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

প্রকল্পটির জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রি, কমিটির সম্মানী, স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

[atn_photocard]
আরও