×
×
Wednesday, 4 November, 2026, 1:00 pm


আজ পোশাকশ্রমিকের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভাঃ ছয় সদস্যের বোর্ড

 

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। শ্রমিকদের অসন্তোষ, মালিকপক্ষের উদ্বেগ আর সরকারের প্রতিশ্রুতির মাঝখানে বসছে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা।

আজ বুধবার বসছে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকালে শ্রম মন্ত্রণালয় জানায়, সভা শুরু হবে বেলা ১১টায়। সভার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পোশাক কারখানাগুলোতে মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন এই বৈঠকের দিকে।

শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক থেকে শুরু করে কারখানার মালিক, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে নীতিনির্ধারক, সবাই জানতে চান, বোর্ড কত দ্রুত কাজ এগোতে পারে এবং কোন পথে মজুরি পুনর্নির্ধারণের আলোচনা চলবে। বৈঠকের প্রথম দিনেই মজুরির অঙ্ক ঠিক হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে একটি স্পষ্ট সময়সীমা ঘোষণা হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

গত রোববার পুনর্গঠিত হয় বোর্ড

শ্রম মন্ত্রণালয় গত রোববার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। ওই প্রজ্ঞাপনে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।

একই দিনে জারি হওয়া আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আলাদা প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

ছয় সদস্যের বোর্ড, নেতৃত্বে জেলা ও দায়রা জজ

পোশাকশিল্পের জন্য ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড কাজ করবে। এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। কাঠামোর দিক থেকে বোর্ডে তিনটি পক্ষের ভারসাম্য রাখা হয়েছে। একদিকে নিরপেক্ষ সদস্য, অন্যদিকে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি। সঙ্গে আছেন পোশাকশিল্পের জন্য নির্দিষ্ট করা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি।

বোর্ডের সংখ্যাগত কাঠামো দেখে বোঝা যায়, এখানে সিদ্ধান্ত হবে আলোচনা, দরকষাকষি ও সমঝোতার ভিত্তিতে। বোর্ডের চেয়ারম্যান এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা শিগগিরই সভা করতে প্রস্তুত। শ্রম আইন অনুযায়ী আগের মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর পরবর্তী পর্যালোচনার একটি আইনি সময়সীমা থাকে, আর সর্বশেষ বোর্ডটি গঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেই হিসাবে নতুন বোর্ডের সামনে সময় বেশি নেই।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতির সাক্ষাৎ

পোশাকশিল্পের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। সাক্ষাতের পরপরই তিনি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মজুরি বোর্ডের সভা দ্রুত হওয়া দরকার, সম্ভব হলে পরদিন বুধবারই। তাঁর মতে, সভা থেকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের একটি সময়সীমা ঘোষিত হলে সাধারণ পোশাকশ্রমিকেরা আশ্বস্ত হবেন। অর্থাৎ মালিকপক্ষের শীর্ষ সংগঠনও চাইছে, সংকটের সমাধান আলোচনার টেবিলেই হোক এবং তা যেন দ্রুত শুরু হয়।

শ্রমমন্ত্রীর বক্তব্য: দ্রুত বোর্ড, আন্দোলনে সতর্কবার্তা

মজুরি বোর্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভা শেষে তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে এবং এই ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ বিষয়টিকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।

সেই সভায় মন্ত্রী শ্রমিকপক্ষকে প্রতিনিধির নাম দিতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন। নাম পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। মন্ত্রীর কথায় ইঙ্গিত ছিল, প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিধা রাখার সুযোগ নেই। বোর্ডের পুনর্গঠন সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ।

প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের আপত্তি

বোর্ড গঠনের এই প্রক্রিয়া সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কয়েকটি শ্রমিক জোট অভিযোগ তুলেছে, শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগে শ্রম আইন ও বিধি পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি এবং ক্রিয়াশীল শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। তারা নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধির নাম আগেই প্রস্তাব করেছিল বলেও জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে এসব আপত্তির কী জবাব আসে, সেটিও এখন নজরে থাকবে।

শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়লে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। অতীতে মজুরি ঘোষণার পরও শ্রমিকদের একটি অংশ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নেমেছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই অনেকে বলছেন, সব পক্ষের কথা শোনার সুযোগ রাখাই হবে বোর্ডের বড় পরীক্ষা।

মজুরির ইতিহাস: ৯৩০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা

বর্তমান আলোচনা বুঝতে হলে পোশাকশিল্পের মজুরির ইতিহাসে চোখ রাখা দরকার। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ন্যূনতম মজুরি ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা এবং ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারিত হয়। ২০১৮ সালে ঘোষিত মজুরি কাঠামোয় ন্যূনতম মজুরি দাঁড়ায় ৮ হাজার টাকায়, যার মধ্যে মূল মজুরি ছিল ৪ হাজার ১০০ টাকা।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে মজুরি বোর্ডের ষষ্ঠ সভায় মালিকপক্ষের প্রস্তাব গ্রহণ করে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই বোর্ড মোট ছয়টি সভা করেছিল এবং ডিসেম্বরে সরকার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই সময়ও মজুরি ঘোষণার পর শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং গাজীপুরে সংঘর্ষে একজন নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ফলে মজুরি নির্ধারণ শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

এই ধারাবাহিকতায় একটি বিষয় স্পষ্ট। দুই থেকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা হয়েছে, আর প্রতিবারই শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকদের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ব্যবধান দেখা গেছে। নিত্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচ বাড়তে থাকায় আগের মজুরি কাঠামো ক্রমে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের দাবি ও জীবনযাত্রার বাস্তবতা

শ্রমিক সংগঠনগুলোর একাংশ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ন্যূনতম মজুরির দাবি জানিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের জোটগুলো ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। তাদের যুক্তি, ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একজন শ্রমিকের পরিবার নিয়ে টিকে থাকার ন্যূনতম খরচ বর্তমান মজুরির তুলনায় অনেক বেশি।

শ্রমিকদের বক্তব্য সরল। যাঁরা দিনে আট ঘণ্টা, অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইম মিলিয়ে আরও বেশি সময় কাজ করেন, তাঁদের হাতে মাস শেষে যে অর্থ আসে তা দিয়ে খাবার, ভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন এই নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সে কারণেই মজুরি পুনর্নির্ধারণকে তাঁরা বাঁচা-মরার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

মালিকপক্ষের উদ্বেগ ও বাস্তবতা

অন্যদিকে মালিকপক্ষের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ বেড়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আছে, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের দাম বাড়াতে চায় না, আর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়াসহ প্রতিযোগী দেশগুলো একই বাজার ধরতে লড়ছে। ফলে মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে চায় মালিকপক্ষ।

তবে বিজিএমইএ সভাপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, মালিকপক্ষও এখন সংকটের দ্রুত সমাধান চাইছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে বা কারখানা অস্থির থাকলে শুধু মালিক নয়, শ্রমিকেরও ক্ষতি। সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করতে না পারলে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। সেই ঝুঁকি বিবেচনায় তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান চান।

পোশাকশিল্প কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে এই খাত থেকে, আর বছরে এর আকার কয়েক হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। লাখ লাখ শ্রমিক, যাঁদের বড় অংশই নারী, এই খাতে কাজ করেন। গ্রামীণ জনপদ থেকে আসা নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা, পরিবারের আয় ও সামাজিক অবস্থান বদলে দেওয়ার পেছনে এই শিল্পের অবদান বড়।

তাই শিল্পের স্থিতিশীলতা শুধু মালিকদের স্বার্থ নয়, এটি লাখো পরিবারের জীবিকারও প্রশ্ন। মজুরি নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। আবার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হলে অসন্তোষ বারবার ফিরে আসতে পারে।

বোর্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

নতুন বোর্ডের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

প্রথমত, গ্রহণযোগ্য একটি সময়সূচি তৈরি করা। কত দিনের মধ্যে মজুরির অঙ্ক চূড়ান্ত হবে, কবে থেকে কার্যকর হবে, তা শুরুতেই স্পষ্ট হলে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কমবে। বিজিএমইএ সভাপতিও এই সময়সীমার ওপরই জোর দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, বাস্তব তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে আলোচনা। বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের সামর্থ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, সবকিছু মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রতিনিধিত্ব ও স্বচ্ছতা। শ্রমিকপক্ষের সব ধারার মতামত যাতে আলোচনায় প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়ে বোর্ডকে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব সংগঠন প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আপত্তি তুলেছে, তাদের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখাও জরুরি।

চতুর্থত, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ। শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিরাপত্তা বাড়িয়ে নয়, ন্যায্য ও দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই অস্থিরতা প্রশমিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক নজর

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও শ্রম অধিকার সংস্থাগুলোর নজর সব সময়ই থাকে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। মজুরি, কাজের পরিবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের বিষয়গুলো ক্রেতাদের সরবরাহকারী নির্বাচনের অন্যতম বিবেচনা হয়ে উঠেছে। তাই মজুরি বোর্ডের প্রক্রিয়া ও ফলাফল কেমন হয়, তা শুধু দেশের নয়, বিদেশি অংশীদারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

সামনে কী হতে পারে

প্রথম সভায় সাধারণত বোর্ডের কর্মপদ্ধতি, আলোচনার কাঠামো ও পরবর্তী সভার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নিজ নিজ মজুরি প্রস্তাব জমা দেন। সভা-সংক্রান্ত প্রাথমিক খবরে জানা যাচ্ছে, পরবর্তী সভায় দুই পক্ষই প্রস্তাব উপস্থাপন করবে এবং সভা চলাকালে বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সংগঠনের জোট ২৫ হাজার টাকার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আগের বোর্ড ছয়টি সভা করে সুপারিশে পৌঁছেছিল। নতুন বোর্ডও কয়েক দফা বৈঠক করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের প্রস্তাবের ব্যবধান কতটা এবং কতটা ছাড় দিয়ে মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছানো যায়, তার ওপর। চূড়ান্ত সুপারিশ হলে তা সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর হবে।

আজকের সভা মজুরি নির্ধারণের দীর্ঘ পথের প্রথম ধাপ মাত্র। কিন্তু এই ধাপের গুরুত্ব অনেক। বোর্ড কতটা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত কাজ করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে শ্রমিকদের আস্থা, মালিকদের স্বস্তি এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও শিল্পের টিকে থাকার সামর্থ্য, এই দুইয়ের সুষম মেলবন্ধনই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সবার চোখ এখন বোর্ডের টেবিলের দিকে, কারণ সেখানকার সিদ্ধান্ত লাখো শ্রমিকের সংসার ও দেশের অর্থনীতির গতিপথ দুটিকেই প্রভাবিত করবে।

 

[atn_photocard]
আরও