আয়কর রিটার্ন ২০২৬-২৭: যে ১০টি সাধারণ ভুলে বাড়তে পারে কর, আসতে পারে নোটিশ
করমুক্ত সীমা বাড়লেও নতুন নিয়মে অনেকের কর বাড়ছে। জরিমানা, হয়রানি ও বাড়তি করের ঝুঁকি এড়াতে জেনে নিন কোথায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মৌসুম এলেই অনেকের মনে একই দুশ্চিন্তা কাজ করে। কোন আয় দেখাব, কোন খরচ বাদ যাবে, আর কোথায় ভুল হলে ঝামেলা বাড়বে? বাস্তবতা হলো, রিটার্ন তৈরির বেশির ভাগ সমস্যা জটিল আইনের কারণে হয় না। হয় অসাবধানতা, তথ্যের ঘাটতি এবং শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয়। এবার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করকাঠামো, যেটি অনেক পুরোনো করদাতাকেও বিভ্রান্তিতে ফেলছে।
বাংলাদেশে আয়বর্ষ চলে ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের আয় ও বিনিয়োগের ভিত্তিতে এখন ২০২৬-২৭ করবর্ষের রিটার্ন জমা হচ্ছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, এই রিটার্ন তৈরিতে করদাতারা কোন ১০টি ভুল সবচেয়ে বেশি করেন।
কেন এবার বাড়তি সতর্কতা দরকার
ভুলগুলোর আলোচনায় যাওয়ার আগে নতুন নিয়মের কয়েকটি মূল বিষয় জানা জরুরি, কারণ অনেক ভুলের উৎস সেখানেই।
প্রথমত, সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার ক্ষেত্রে এই সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত আহত যোদ্ধার সীমা সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
দ্বিতীয়ত, করের ধাপ বদলেছে। আগের ৫ শতাংশের ধাপটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত। এরপর পরের ৩ লাখে ১০ শতাংশ, ৪ লাখে ১৫ শতাংশ, ৫ লাখে ২০ শতাংশ এবং ২০ লাখে ২৫ শতাংশ হারে কর লাগবে। বাকি আয়ের ওপর হার ৩০ শতাংশ।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগ রেয়াতের হিসাব বদলেছে। অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশের জায়গায় এখন ধরা হয় ১০ শতাংশ। সর্বোচ্চ রেয়াত ১০ লাখ থেকে কমে সাড়ে ৭ লাখ টাকা হয়েছে।
চতুর্থত, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার করপদ্ধতি বদলেছে এবং ন্যূনতম কর সারা দেশে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন করদাতার জন্য এই অঙ্ক ১ হাজার টাকা।
এই প্রেক্ষাপটে পুরোনো অভ্যাসে রিটার্ন তৈরি করলে ভুলের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।
১. করবর্ষ ও আয়বর্ষ গুলিয়ে ফেলা
সবচেয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি এটি। অনেকে ভাবেন, ২০২৬-২৭ করবর্ষের রিটার্নে চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) আয় দেখাতে হবে। আসলে এই রিটার্ন গত আয়বর্ষের, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের আয়ের হিসাব। ভুল বছরের আয় বসালে করের অঙ্ক পুরোপুরি ভুল হয়ে যায়।
সমাধান: আয়ের হিসাব শুরু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, কোন সময়ের আয় ধরছেন। বেতন, ব্যাংক বিবরণী, ভাড়ার রসিদ সবই ওই বারো মাসের হতে হবে।
২. সময়সীমা ও প্রণোদনার হিসাব না রাখা
রিটার্ন জমার সময় কখন, তা না জানাও একটি বড় ভুল। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা মিলত। সেই সুযোগ এখন শেষ। তবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে বাড়তি কর দিতে হবে না, যদিও প্রণোদনাও মিলবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দিলে অন্তত ৩ হাজার টাকা এবং এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে দিলে অন্তত ৫ হাজার টাকা বাড়তি কর গুনতে হবে।
অর্থাৎ দেরি করলে প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়ে। সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে ভেবে অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এই বাড়তি সময়ের ঘোষণা কখনো আসে, কখনো আসে না।
সমাধান: তারিখ নিয়ে অনুমানের ওপর ভরসা না করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন দেখুন। সম্ভব হলে ডিসেম্বরের আগেই রিটার্ন জমা দিন।
৩. সব আয়ের উৎস না দেখানো
অনেক করদাতা শুধু মূল পেশার আয় রিটার্নে দেখান। অথচ আইনে যেকোনো উৎসের আয়ই বিবেচ্য। এর মধ্যে আছে:
বাড়ি বা দোকান ভাড়ার আয়
ব্যাংক আমানতের সুদ
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন আয়
খণ্ডকালীন পরামর্শ বা টিউশন
শেয়ার, ডিভিডেন্ড ও মূলধনী মুনাফা
কৃষি বা ব্যবসার আয়
এনবিআরের তথ্যভান্ডারে ব্যাংক, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য ক্রমেই মিলিয়ে দেখার সুযোগ বাড়ছে। তাই কোনো আয় গোপন থাকলে পরে ধরা পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। এতে জরিমানা ও সুদসহ বাড়তি কর গুনতে হতে পারে।
সমাধান: বছরজুড়ে যত জায়গা থেকে টাকা এসেছে, তার একটি তালিকা বানান। রিটার্ন লেখার সময় সেই তালিকা ধরে একে একে মিলিয়ে নিন।
৪. মোট আয় আর করযোগ্য আয়কে এক করে ফেলা
অনেকে মনে করেন, বছরে যত টাকা আয় হয়েছে, পুরোটার ওপরই কর দিতে হবে। আবার কেউ উল্টোভাবে ভাবেন, প্রকৃত আয় যা-ই হোক, ছাড়ের পর সবকিছু করমুক্ত। দুটো ধারণাই ভুল। করযোগ্য আয় হলো মোট আয় থেকে আইনসম্মত ছাড় ও অনুমোদিত বাদ বিয়োগ করার পর যা থাকে, সেটি।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদির কোনটি কতটা করমুক্ত, তা আলাদা করে হিসাব করতে হয়। এখানে ভুল হলে করের অঙ্ক হয় প্রয়োজনের বেশি, নয়তো কম। কম দেখালে পরে নোটিশ আসতে পারে।
সমাধান: বেতন বিবরণীর প্রতিটি খাত আলাদা করে দেখুন। প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখা থেকে বছরশেষের কর কর্তন সনদ ও বেতন বিবরণী চেয়ে নিন।
৫. সঞ্চয়পত্রের মুনাফার নতুন নিয়ম না বোঝা
এটি এবারের সবচেয়ে বড় নতুন ফাঁদ। আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কাটা করই সাধারণভাবে চূড়ান্ত কর হিসেবে ধরা হতো। এবার মুনাফা মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হবে এবং আগে কাটা করটি মোট কর থেকে বাদ যাবে।
এর মানে, করদাতার প্রযোজ্য করহার যদি ১০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে রিটার্ন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে। কম আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে উল্টোটা হতে পারে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কর কাটা হয়ে থাকলে তিনি ফেরত চাইতে পারবেন।
যাঁরা শুধু উৎসে কাটা করকে চূড়ান্ত ধরে নিশ্চিন্ত থাকেন, তাঁদের হিসাবে বড় গরমিল হওয়ার আশঙ্কা এখানেই।
সমাধান: সঞ্চয়পত্রের মোট মুনাফা ও কর্তিত করের বিবরণ ব্যাংক বা সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করুন। রিটার্নে মুনাফা মোট আয়ে যোগ করে নিজের করহার অনুযায়ী হিসাব মিলিয়ে দেখুন।
৬. বিনিয়োগ রেয়াতের পুরোনো হিসাবে চলা
গত বছর যেভাবে বিনিয়োগ রেয়াত হিসাব করেছেন, এবারও সেভাবে করলে ভুল হবে। রেয়াতের পরিমাণ এখন নির্ধারিত হয় তিনটি হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে কম অঙ্কটি দিয়ে। এগুলো হলো মোট আয়ের ৩ শতাংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা।
একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক, একজন সাধারণ করদাতার করযোগ্য আয় ১০ লাখ টাকা এবং তিনি অনুমোদিত খাতে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। গতবার তিনি বিনিয়োগের জন্য ৩০ হাজার টাকা রেয়াত পেয়েছিলেন, এবার পাবেন ২০ হাজার টাকা। ফলে একই আয় ও একই বিনিয়োগেও তাঁর নিট কর বেড়ে দাঁড়াবে ৫৫ হাজার টাকায়।
আরেকটি বিভ্রান্তি হলো, কোন কোন খাত অনুমোদিত তা না জেনে যেকোনো খরচকে বিনিয়োগ ধরে নেওয়া। অনুমোদিত খাতের বাইরের খরচ রেয়াতের হিসাবে ঢোকানো যায় না।
সমাধান: নতুন সূত্রে নিজের রেয়াত হাতে হিসাব করে দেখুন। অনুমোদিত খাত ও প্রমাণপত্র (প্রিমিয়াম রসিদ, ডিপিএস বিবরণী, ইত্যাদি) আগেই গুছিয়ে রাখুন।
৭. উৎসে কর ও অগ্রিম করের ক্রেডিট দাবি না করা
চাকরিজীবী, ব্যাংকে টাকা রাখা ব্যক্তি, গাড়ির মালিক, ঠিকাদার কিংবা ফ্রিল্যান্সারের আয় থেকে বছরজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় কর কেটে রাখা হয়। এসব কর রিটার্নে দেখিয়ে সমন্বয় করার সুযোগ আছে। কিন্তু অনেকে এই তথ্য ঠিকমতো দেন না, ফলে একই কর দুইবার দিতে হয়।
কখনো কখনো উল্টো ঘটনাও ঘটে। কর্তিত করের সনদ হাতে না থাকায় সমন্বয় দাবি করা যায় না, অথচ প্রকৃত দায় তার চেয়ে কম ছিল।
সমাধান: ব্যাংক সুদের কর্তন সনদ, বেতন থেকে কাটা করের সনদ, গাড়ি নিবন্ধনের অগ্রিম কর, বিদ্যুৎ বা মোবাইল বিল থেকে কাটা অর্থসহ সব কর্তনের প্রমাণ একসঙ্গে রাখুন। রিটার্নের কর্তন অংশে সেগুলো পুরোপুরি বসান।
৮. সম্পদ ও দায়ের বিবরণীতে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য
আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করতে হয়। এই অংশে সবচেয়ে বেশি তথ্যগত ভুল দেখা যায়। যেসব ভুল বেশি ঘটে:
ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ বা জমির মূল্য বাদ দেওয়া
বছর শেষের পুঁজি আর বছরের শুরুর পুঁজির হিসাব না মেলা
আয়ের উৎস না দেখিয়ে সম্পদ বৃদ্ধি দেখানো
আত্মীয়ের কাছ থেকে পাওয়া উপহার বা ঋণ উল্লেখ না করা
স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানের সম্পদ বাদ দেওয়া, যেখানে আইন তা দেখাতে বলে
ঋণ বা দেনা বাদ দেওয়া
সম্পদ বেড়েছে অথচ তার আয়ের উৎস রিটার্নে নেই, এমন ঘটনা কর কর্তৃপক্ষের নজরে সহজেই আসে। এমন হলে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ আসার সম্ভাবনা থাকে।
সমাধান: বছরের শুরু ও শেষের সম্পদের তালিকা পাশাপাশি রাখুন। যে সম্পদ বেড়েছে বা নতুন হয়েছে, তার টাকার উৎস কী ছিল তা পরিষ্কারভাবে লিখে রাখুন। বিদেশে সম্পদ বা ঋণ থাকলে সেটিও দেখাতে ভুলবেন না।
৯. ন্যূনতম কর ও করদাতার ধরন নিয়ে ভুল ধারণা
এই ভুল দুই রকমের। কেউ ভাবেন, করমুক্ত সীমার নিচে আয় হলে রিটার্ন দেওয়ারই দরকার নেই। অথচ নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতার জন্য আয় যা-ই হোক রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। টিআইএন থাকা মানেই নিজের অবস্থা অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে কি না, তা যাচাই করতে হয়।
অন্য ভুলটি হলো ন্যূনতম করে। করমুক্ত সীমার বেশি আয় হলে এখন সারা দেশে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে, এমনকি হিসাবের কর তার চেয়ে কম হলেও। সিটি করপোরেশনের বাইরের পুরোনো করদাতাদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আগের ৩ হাজার টাকা থেকে বেড়েছে। নতুন করদাতার ক্ষেত্রে অবশ্য ন্যূনতম কর ১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া করমুক্ত সীমা কার জন্য কত, তা না জেনে ভুল ধরনে নিজেকে দেখানোর উদাহরণও আছে। নারী, প্রবীণ বা প্রতিবন্ধী করদাতা অনেক সময় নিজের জন্য নির্ধারিত বাড়তি করমুক্ত সীমা দাবি করতে ভুলে যান।
সমাধান: নিজের করদাতার ধরন সঠিকভাবে নির্বাচন করুন। প্রযোজ্য হলে প্রতিবন্ধিতা সনদ বা বয়সের প্রমাণ সঙ্গে রাখুন।
১০. ব্যক্তিগত তথ্য ভুল দেওয়া ও কাগজপত্র সংরক্ষণে গাফিলতি
শেষ ভুলটি সবচেয়ে ছোট মনে হলেও পরিণতি কম নয়। টিআইএন নম্বরে একটি অঙ্কের ভুল, ঠিকানা বা কর অঞ্চলের ভুল, কিংবা বিবরণীতে ভুল ব্যাংক হিসাবের তথ্য, এসব কারণে রিটার্ন গ্রহণে সমস্যা বা ফেরত পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি সাধারণ গাফিলতি হলো রিটার্ন জমার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও কর পরিশোধের চালান সংরক্ষণ না করা। ভবিষ্যতে ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে, ভিসার আবেদন করলে বা কোনো দরপত্রে অংশ নিতে হলে এসব কাগজ লাগে। কেউ কেউ পুরো রিটার্ন তৈরির দায়িত্ব মধ্যস্থতাকারীর হাতে ছেড়ে দেন এবং নিজে কিছুই মিলিয়ে দেখেন না। ফলে ভুল থাকলেও জানতে পারেন না।
রিটার্নে কোনো ভুল ধরা পড়লে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সেটি জানা না থাকলে ভুলটি ঘাড়েই থেকে যায়।
সমাধান: জমা দেওয়ার আগে একবার টিআইএন, ঠিকানা, ব্যাংক ও যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে নিন। রিটার্নের পূর্ণ অনুলিপি, প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও কর পরিশোধের প্রমাণ অন্তত কয়েক বছর সংরক্ষণ করুন। কোনো পরামর্শকের সাহায্য নিলেও চূড়ান্ত তথ্য নিজে যাচাই করুন, কারণ রিটার্নের দায় আপনারই।
ভুল এড়াতে সহজ একটি চেকলিস্ট
* রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো একবার মিলিয়ে নিলে বেশির ভাগ বড় ভুল এড়ানো যায়।
* সঠিক আয়বর্ষের (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬) আয় ধরা হয়েছে কি না।
* সব উৎসের আয় রিটার্নে এসেছে কি না।
* সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মোট আয়ে যোগ হয়েছে কি না।
* বিনিয়োগ রেয়াত নতুন সূত্রে হিসাব হয়েছে কি না।
* উৎসে কর ও অগ্রিম করের সনদ রিটার্নে বসানো হয়েছে কি না।
* সম্পদ ও দায়ের বিবরণী বছরের শুরু ও শেষের হিসাবের সঙ্গে মেলে কি না।
* সঠিক করদাতার ধরন ও করমুক্ত সীমা বেছে নেওয়া হয়েছে কি না।
* টিআইএন, ঠিকানা ও ব্যাংক তথ্য নির্ভুল কি না।
* ন্যূনতম কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
* জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না।
শেষ কথা
আয়কর রিটার্ন শুধু আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একজন নাগরিকের আর্থিক স্বচ্ছতার দলিল, যা ভবিষ্যতে ঋণ, ভিসা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায় কাজে লাগে। এবারের নতুন করকাঠামোতে করমুক্ত সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতা, বিনিয়োগকারী ও সঞ্চয়পত্রধারীর কর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুরোনো অভ্যাসে হিসাব না কষে নতুন নিয়ম জেনে নিয়ে সতর্কভাবে রিটার্ন তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সময় থাকতে প্রস্তুতি নিন, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন এবং প্রয়োজনে যোগ্য কর পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন। একটু বাড়তি মনোযোগই আপনাকে জরিমানা, নোটিশ ও মানসিক চাপ থেকে বাঁচাতে পারে।