ছোটদের গল্প
মেঠো পথের ধুলোমাখা দিন
ওয়ালিদ আমিন
যে গ্রামে সকাল হতো পাখির ডাকে মনে কি পড়ে সেই শৈশবের কথা?
যে শৈশবে দামি খেলনা ছিল না, ছিল না মোবাইল ফোনের রঙিন পর্দা, ছিল না সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বসে থাকার অভ্যাস। অথচ সেই শৈশবেই লুকিয়ে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ। একটু রোদ, এক পশলা বৃষ্টি, মাটির গন্ধ, বন্ধুদের ডাক আর খোলা মাঠের অফুরন্ত স্বাধীনতা এই ছিল আনন্দের আসল ঠিকানা।
বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল এক ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের নাম শালিকপুর। গ্রামের একপাশ দিয়ে বয়ে গেছে সরু খাল, অন্য পাশে বিস্তীর্ণ ধানখেত। মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে একটি মেঠো পথ। পথটির দুই পাশে কোথাও তালগাছ, কোথাও নারকেলগাছ, কোথাও বাঁশঝাড়। একটু দূরে দূরে মাটির বাড়ি, খড়ের চাল আর উঠোনে শুকাতে দেওয়া ধান।
ভোর হলেই গ্রামের আকাশে পাখিরা ডানা মেলত। মোরগ ডেকে উঠত, গরুর গলায় বাঁধা ঘণ্টা টুংটাং শব্দ করত। পুকুরঘাটে কলসি নিয়ে যেতেন গ্রামের মায়েরা। আর ঘুমচোখে শিশুরা মায়ের ডাক শুনে বিছানা ছেড়ে উঠত।
সেই গ্রামে থাকত দশ বছরের একটি ছেলে। তার নাম রাকিব।
রাকিবের বাবা ছিলেন একজন কৃষক। তাঁদের ছোট্ট বাড়িটির সামনে ছিল একটি আমগাছ, পেছনে সবজির বাগান। সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিল না।
রাকিবের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ছিল তার বন্ধুদের দল।
দলের মধ্যে ছিল মিতু, হাসান, পলাশ, রিনা, সুমন আর ছোট্ট বুলবুলি। তাদের কারও পায়ে জুতা থাকত, কারও থাকত না। কারও জামা নতুন, কারও জামায় পুরোনো সেলাই। কিন্তু মাঠে নামলে এসবের কোনো মূল্য থাকত না।
তখন সবাই শুধু বন্ধু।
আর বন্ধুত্বের কোনো দাম ছিল না কারণ সেই বন্ধুত্ব ছিল অমূল্য।