×
×
Tuesday, 27 October, 2026, 10:54 am


সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন, শর্টসার্কিটের প্রাথমিক ধারণা

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের ছাদে আগুনের সূত্রপাত। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট, তবে সেটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বাথরুমের ওপরের ছাদের অংশে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর সেখানে থাকা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনা

বাংলাদেশ সচিবালয় দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে সচিবালয়ের কোনো ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা স্বাভাবিকভাবেই ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এবারের ঘটনায় আগুন দ্রুত নিভে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট স্থানের বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সকেট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়মিত বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি

সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ভবনটির ষষ্ঠ তলায়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা কাজ করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনায় ভবনটির চারটি তলায় অবস্থিত একাধিক মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র, কম্পিউটার ও আসবাব পুড়ে যায়। দেয়াল ও মেঝেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দপ্তরগুলোর মধ্যে ছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সেই অগ্নিকাণ্ডে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারান ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মো. সোহানুর জামান। ট্রাকচাপায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সরকারি স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।

তদন্তে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের কথা উঠে আসে

২০২৪ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গকে আগুনের সূত্রপাতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, সকেট ও প্লাগের দুর্বল সংযোগ, কেবলের ত্রুটিপূর্ণ সংযোগসহ বিভিন্ন কারণে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে। ওই ঘটনায় কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০২৪ সালের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের বিষয়টি উঠে এলেও মঙ্গলবারের নতুন ঘটনাটির কারণ এখনো প্রাথমিক ধারণার পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত বা কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনাকেও চূড়ান্তভাবে শর্টসার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ড বলা যাচ্ছে না।

অগ্নিনিরাপত্তায় নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজন

সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর নিয়মিত পরীক্ষা, পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত তার প্রতিস্থাপন, অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখা জরুরি।

পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন লাগলে দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং নিরাপদে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণও এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে মঙ্গলবারের আগুন দ্রুত নিভে গেলেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ত্রুটির সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনে হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও