×
×
Tuesday, 27 October, 2026, 10:55 am

রাজধানী
ঢাকার যানজটের নেপথ্যে কি ফুটপাত দখল..?

রাস্তার দুপাশ জুড়ে হকারদের অবৈধ অবস্থান, পথচারীর দুর্ভোগ ও নগর ব্যবস্থাপনার নতুন চ্যালেঞ্জ

থেমে থাকা এক মহানগরের গল্প

ঢাকা কেবল একটি রাজধানী শহর নয়, এটি বিশ কোটি মানুষের আশা ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন এই শহরে প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ চলাচল করে। কিন্তু এই চলাচল এখন আর স্বাভাবিক নয়। সকালে অফিসে যাওয়া থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা, প্রতিটি মুহূর্তে নগরবাসীকে লড়তে হয় এক অসহনীয় বাস্তবতার সঙ্গে, যার নাম যানজট। এই যানজটের জন্য আমরা প্রায়ই দায়ী করি ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য, অপরিকল্পিত নগরায়ন বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে। কিন্তু এর আড়ালে আরও একটি বড় এবং দৃশ্যমান কারণ প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে ঘটে চলেছে, তা হলো ফুটপাত ও সড়কের দুপাশ দখল করে হকারদের অবস্থান।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চিত্রটি একই। ফুটপাত বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। যেটুকু আছে, তা দখল করে আছে চায়ের দোকান, ভাসমান কাপড়ের দোকান, ফলের ভ্যান, জুতার পসরা। পথচারী বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নেমে আসছেন। আর তখনই সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যাচ্ছে, গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এই প্রতিবেদনে আমরা ঢাকার যানজট ও জনজীবনে হকারদের অবস্থানের প্রভাব, এর আর্থ সামাজিক কারণ এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ফুটপাত দখলের বাস্তব চিত্র: কোথায় কিভাবে হচ্ছে দখল

ঢাকার ফুটপাত দখলের চিত্রটি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর ১২, পল্লবী, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, সায়েদাবাদ, নিউ মার্কেট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কগুলোতে এই দখল সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব এলাকায় ফুটপাতের পুরোটাই হকারদের দখলে। কোথাও কোথাও তারা ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একটি অংশও দখল করে ফেলেছে। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে এই দখল আরও প্রকট হয়। ভ্রাম্যমাণ ভ্যান, ঠেলাগাড়ি এবং অস্থায়ী বেঞ্চ বসিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। এর ফলে পথচারীদের জন্য হাঁটার কোন জায়গা থাকছে না।

একই চিত্র দেখা যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের ওপরই জমে উঠছে ক্রেতাদের ভিড়। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য যে জায়গা থাকার কথা, তা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

ঢাকা শহরের ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশই দখল করে বসেন ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকানদাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করতে হয়। এই বাস্তবতাই প্রমাণ করে যে, ফুটপাত দখল এখন আর বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

যানজট সৃষ্টিতে ফুটপাত দখলের প্রত্যক্ষ প্রভাব

প্রশ্ন হলো, ফুটপাত দখলের সঙ্গে যানজটের সম্পর্ক কী? সম্পর্কটি অত্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং বৈজ্ঞানিক।

প্রথমত, যখন ফুটপাত দখল হয়ে যায়, তখন পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসেন। এতে করে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায়। একটি সড়ক যদি ১০ মিটার চওড়া হয়, কিন্তু দুই পাশে দুই মিটার করে হকার দখল করে রাখে, তাহলে কার্যত সড়কটি ৬ মিটারে পরিণত হয়।

দ্বিতীয়ত, হকারদের কেন্দ্র করে ক্রেতাদের জটলা তৈরি হয়। ক্রেতারা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে দরদাম করেন, পণ্য দেখেন। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার মতো শহরে যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ চলাচল করে, সেখানে রাস্তার পাশের এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সামগ্রিকভাবে যানজটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যানজটের কারণে ১ কোটি যাত্রীর প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার বিশাল ক্ষতি হয়।

তৃতীয়ত, ফুটপাত দখলের কারণে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলগুলো যত্রতত্র পার্কিং করে। এই অবৈধ পার্কিং যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে। ফলে একদিকে পথচারীরা হাঁটতে পারছেন না, অন্যদিকে যানবাহন চলতে পারছে না। একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে।

জনজীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব: নিরাপত্তা থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ঢাকার যানজট কেবল সময় নষ্ট করে না, এটি জনজীবনকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করে।

১. পথচারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি: ফুটপাত দখলের সবচেয়ে বড় শিকার হলেন পথচারী। ফুটপাত দখলমুক্ত না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হন এবং তৈরি হয় তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। ঢাকায় পথচারী দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিরাপদ হাঁটার জায়গা না থাকা। ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীরা সড়কে নেমে এলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

২. পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা: ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর অধিকাংশেরই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। খাবারের দোকান থেকে শুরু করে ফলের খোসা, পলিথিন সব ফুটপাতেই ফেলে দেওয়া হয়। এতে ফুটপাত অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে এই বর্জ্য ড্রেনে গিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করে।

৩. মানসিক চাপ ও কর্মঘণ্টা নষ্ট: দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ, বিরক্তি এবং ক্লান্তি তৈরি হয়। অফিসে দেরিতে পৌঁছানো, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস মিস করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

হকারদের বাস্তবতা: জীবিকার প্রশ্ন বনাম নগর শৃঙ্খলা

এই আলোচনায় হকারদের দৃষ্টিকোণটি বোঝাও জরুরি। ঢাকার অধিকাংশ হকারই দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। গ্রাম থেকে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা এই মানুষগুলোর জন্য ফুটপাতে ব্যবসা করাই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তাদের জন্য এটি কেবল দখল নয়, এটি বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল সঠিক বা ভুলের প্রশ্ন নয়, এটি একটি মানবিক গল্প যা নগর দারিদ্র্য, বেঁচে থাকা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিফলিত করে। ঢাকা শহরে পরিকল্পিত হকার জোনের ঘাটতি দীর্ঘদিনের। বৈধভাবে ব্যবসা করার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই ফুটপাত বেছে নেন।

আবার অনেক ক্ষেত্রে এই হকারদের কাছ থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের পরও তারা আবার ফিরে আসে, কারণ তাদের পেছনে একটি অদৃশ্য শক্তি কাজ করে। মুক্তিযোদ্ধা হকার্স মার্কেটের দুই পাশের ফুটপাত এবং সংলগ্ন সড়কের একটি অংশ এখন হকারদের দখলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারীরা, এমন অভিযোগও রয়েছে।

২০২৬ সালে সিটি কর্পোরেশনের কঠোর অবস্থান ও নতুন উদ্যোগ

এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ২০২৬ সালে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন মিরপুরের মতো ব্যস্ততম এলাকায় দীর্ঘদিনের দখলে থাকা ফুটপাত মুক্ত করার জন্য বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। তার এই উদ্যোগের পর এলাকার চেহারা বদলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। যে ফুটপাতগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসতো, সেই ফুটপাত এখন উন্মুক্ত। পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে হাঁটছে, আর মূল সড়কে গাড়ি চলছে তার নিজস্ব গতিতে। ফলে যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। এই পরিবর্তনে জনতার মুখে প্রশংসাও শোনা গেছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আরও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ঢাকার সব এলাকায় হকারদের বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। আইন ভেঙে উচ্ছেদ করা ফুটপাত বা সড়কে ফের দোকানপাট বসানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, উচ্ছেদের পর পুনরায় সড়ক দখলের চেষ্টা করলে হকারদের মালামাল জব্দ বা ক্রোক করা হবে এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মামলাও দায়ের করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূল সড়কসহ কোনো ফুটপাতে অবৈধভাবে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন হকার পুনর্বাসন নীতিমালা ২০২৬: কি আছে এতে

সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালে একটি যুগান্তকারী নীতিমালা জারি করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা ২০২৬।

এই নীতিমালায় হকারদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট জোনে ব্যবসা পরিচালনা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট চালুসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রাখা হয়েছে। নীতিমালার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, হকারদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা এবং হকারদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করা।

নীতিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরের কোথাও কোনো হকার বসতে পারবেন না। সরকার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে হকারদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যানজটকে তীব্র করেছে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

প্রস্তাবিত সমাধানের মধ্যে রয়েছে:

১. জোন ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা: ঢাকাকে সাতটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা। যেদিন যে এলাকায় সাপ্তাহিক মার্কেট বন্ধ থাকবে, সেদিন সেই এলাকার উন্মুক্ত স্থানে হলিডে মার্কেট করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

২. হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট: ব্যস্ত সড়কে দিনের বেলায় হকার বসতে না দিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা রাতে নির্দিষ্ট স্থানে তাদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া। এতে করে সাধারণ দিনে ফুটপাত ফাঁকা থাকবে এবং হকারদের আয়ও বন্ধ হবে না।

৩. ডিজিটাল নিবন্ধন: প্রত্যেক হকারকে একটি পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। এর ফলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং কারা কোথায় বসছে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে।

টেকসই সমাধানের পথ: উচ্ছেদ নয়, ব্যবস্থাপনা

অভিজ্ঞতা বলে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরই আবার আগের চেহারায় ফিরে আসছে ফুটপাত, এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। হকাররা উচ্ছেদের পর আবার ফিরে আসে, কারণ তাদের বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা হয় না।

তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও মানবিক ব্যবস্থাপনা।

প্রথমত, ফুটপাতকে জনগণের সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে তা পুরোপুরি দখলমুক্ত রাখতে হবে। সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখার বিধান রয়েছে। এই আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বহুতল বিশিষ্ট হকার্স মার্কেট নির্মাণ করা যেতে পারে। অনেক দেশে এই মডেল সফল হয়েছে।

তৃতীয়ত, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা অনেক সময় কম দামে পণ্য কেনার জন্য ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেই কেনাকাটা করি। এই চাহিদা থাকার কারণেই ফুটপাতে হকাররা বসে। যদি আমরা সচেতনভাবে ফুটপাতের পরিবর্তে নির্ধারিত মার্কেট থেকে কেনাকাটা করি, তাহলে ফুটপাত দখলের প্রবণতা কমবে।

চতুর্থত, সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশন একা এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না।

উপসংহার: হাঁটার যোগ্য ঢাকার স্বপ্ন

ঢাকার যানজট সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি, এর সমাধানও একদিনে হবে না। কিন্তু ফুটপাত দখলমুক্ত করা এই সমাধানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ। একটি শহরের সভ্যতা বোঝা যায় তার ফুটপাত দেখে। যে শহরে মানুষ নিরাপদে হাঁটতে পারে না, সে শহর কখনোই বাসযোগ্য হতে পারে না।

ঢাকার সব স্থানে হকার বসতে দেওয়া হবে না, এই কঠোর বার্তা এবং হকার পুনর্বাসন নীতিমালা ২০২৬ আমাদেরকে একটি নতুন আশা দেখাচ্ছে। এখন প্রয়োজন এই নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন। উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তবেই ঢাকার ফুটপাত আবার পথচারীদের হবে, সড়ক হবে যানজটমুক্ত এবং জনজীবন ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক গতি। হাঁটার যোগ্য, চলাচলের যোগ্য একটি ঢাকার জন্য রাষ্ট্র, নাগরিক এবং হকার, সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দিতে।

আরও