ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মৃত্যু- আমাদের করণীয় কি?
এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে ঘর, ছাদ, ডোবা ও নালা পরিষ্কার রাখার বিকল্প নেই
সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের গ্রাসে প্রতিদিনই কেউ না কেউ মৃত্যুর মুখে পড়ছে। বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। শুধু চিকিৎসা বা ওষুধ দিয়ে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মশা নিধনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কারণ ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। আর এই মশা পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। বাসা-বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডোবা, নালা, ছাদে লাগানো কৃষি গাছের টব বা পানি ধরে রাখতে পারে এমন সব জায়গা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে অল্প পানিতেই ডিম পাড়ে মশা। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এবং শরীরে লালচে দাগ। অনেক সময় তেমন লক্ষণ না থাকলেও আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ ছড়াতে পারেন। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়া, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার সচেতনতা। বাড়ির আশপাশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, টায়ার, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদের গাছের টব, ডোবা ও নালা পরীক্ষা করতে হবে। জমা পানি ফেলে দিতে হবে বা ঢেকে রাখতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে কোথাও জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরে ও বাইরে মশারি, রিপেলেন্ট এবং ফুল হাতা কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিবারের সবাইকে সচেতন করতে হবে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মশক নিধন এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নাগরিক উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন। প্রতিটি পরিবার যদি নিজের ঘর, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে, তাহলে মশার প্রজনন অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তির দায়িত্ব নয়। এটি সামাজিক দায়িত্ব। পরিবার, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, অফিস ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় সচেতনতা ছড়ালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমানো সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে পরিবেশ সুস্থ রাখতে হবে। আজ থেকেই ঘর, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার করার অঙ্গীকার হোক। তবেই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে টিকে থাকা সম্ভব হবে।