×
×
Saturday, 8 August, 2026, 1:29 am


বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ: বিপর্যস্ত পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা, ব্যক্তি আমানতকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।

দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে (এনবিএফআই) ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহকস্বার্থ বিপর্যয়ের জের ধরে শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একের পর এক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া ও অস্বাভাবিক উচ্চ হারে খেলাপি ঋণের কারণে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে মূল তথ্য

বিষয়বস্তু বিবরণ
বন্ধ করা প্রতিষ্ঠান ৫টি
ব্যক্তি আমানতকারী প্রায় ২৭ হাজার
মোট আমানত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
ফেরতের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা (প্রতি ব্যক্তি)

কেন এই সিদ্ধান্ত?

মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত জটিলতা ও তারল্য সংকট চলছিল। কিন্তু চূড়ান্ত রেষারেষি ঘটে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী (গত ডিসেম্বর শেষে):

· এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯.৯৯%
· ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০%
· আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩%
· পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫%
· ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪%

কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে?

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো:
১. এফএএস ফাইন্যান্স
২. ফারইস্ট ফাইন্যান্স
৩. আভিভা ফাইন্যান্স
৪. পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস
৫. ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়ন করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন।

ব্যক্তি আমানতকারীরা কী পাবেন?

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তবে পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রথম ধাপে পর্ষদ বিলুপ্ত করে সম্পদ ও দায় মূল্যায়নের পর ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এসব প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে।

পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছে আরও চার প্রতিষ্ঠান

বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

· বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
· প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স
· জিএসপি ফাইন্যান্স
· প্রাইম ফাইন্যান্স

এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

পূর্বসুরি ও পটভূমি

এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেসময় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বর্তমানে তারই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

  1. পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আপনি যদি এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতে ব্যক্তি আমানতকারী হন, তাহলে জেনে রাখুন:

· বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন
· প্রশাসক নিয়োগের পর আবেদনের প্রক্রিয়া জানানো হবে
· প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাজারো গ্রাহক এখন anxiously অপেক্ষা করছেন, তাঁদের সঞ্চিত অর্থের কতটুকু ফিরে পাবেন তা নিয়ে।

আরও