×
×
Saturday, 31 October, 2026, 12:21 am


ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের নামে পাঁচ লাখ কোটি টাকা পাচারঃ গভর্নর

এক-তৃতীয়াংশ অর্থই নেই ব্যাংকিং সিস্টেমে; খেলাপি ঋণ নিয়ে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের নামে পাঁচ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে, যার অধিকাংশই পাচার হয়ে গেছে। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং সিস্টেমের এক-তৃতীয়াংশ অর্থই নেই, যাকে ভদ্র ভাষায় ‘খেলাপি ঋণ’ বলা হচ্ছে।

শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গভর্নর। অর্থনীতির বর্তমান সংকট ও ব্যাংকিং খাতের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরাসরি ও কঠোর বক্তব্য রাখেন।

‘যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে সেই টাকা নেই’

খেলাপি ঋণ কমাতে ইতিমধ্যে ‘অ্যাসেট রিকোভারি’ বা সম্পদ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, “যে ১০০ টাকা নিয়েছে, তার কাছে কিন্তু একশ’ টাকা নেই। আমরা এখন কাজ করছি এই টাকা কীভাবে আদায় করা যায়।” বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়ার আগে একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে পৃথক ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ

খেলাপি ঋণের বাস্তবতা স্বীকার করার পাশাপাশি বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি ‘সক্রিয় করতে’ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন গভর্নর। এই ঋণে সরকার ৬ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

অর্থনীতিতে এত বড় অঙ্কের ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, “একক ঋণগ্রহীতার এক্সপোজারটা কোথায়, তা আপনারা জানেন। আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে, তার সীমা বাড়ানো দরকার। এর মানে এই না যে, ব্যাংক ঋণ দিয়ে দিবে। আমরা প্রত্যাশা করি, ব্যাংক ভালো গ্রাহককে দেবে।”

কোনো নতুন টাকা ছাপানো হচ্ছে না

এই ঋণ প্যাকেজ বাস্তবায়নে কোনো নতুন টাকা ছাপানো হবে না বলে স্পষ্ট করেন গভর্নর। তিনি বলেন, “এটা ব্যাংকিং খাতের টাকা, ব্যাংক থেকেই দেয়া হবে। কিছু ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য আছে, তা ঋণ দিয়ে আবার ব্যাংকে ফিরিয়ে আনা হবে।” লেনদেনের অনিয়ম বা লুফহোল (loopholes) বন্ধে প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্থবির অর্থনীতি ও ঋণ প্যাকেজের জরুরি প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে, যা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন গভর্নর। অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের হাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (চলতি মূলধন) ড্রাই হয়ে গেছে। তাদের কাছে টাকা নেই। অর্থনীতি যে অবস্থায় আছে, এই মুহূর্তে এটা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো চয়েস নেই। ইকোনমি বুস্ট করার জন্য করতে হয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকার কম মূলধনের ব্যাংকগুলোকে নগদ লভ্যাংশ দিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গভর্নরের এ ধরনের কঠোর অবস্থান ও ঋণ প্যাকেজ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

[atn_photocard]
আরও