×
×
Sunday, 1 November, 2026, 6:19 am


বিএটির বিরুদ্ধে ৩ লাখ কোটি টাকার জালিয়াতি ও পাচারের অভিযোগ- অনুসন্ধানে দুদক

৫৫ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার পাচারের সন্দেহে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধক সংস্থার তৎপরতা জোরদার, বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি কৌশলে বিদেশি কোম্পানির হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ?

উন্মোচনে তদন্ত শুরু

দেশের শীর্ষ দুর্নীতি প্রতিরোধক সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)-র বিরুদ্ধে গত ৫৫ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলা মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার সমান) জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে। এই বিরাট অর্থ পাচারের রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

অভিযোগের মূল বক্তব্য: পরিত্যক্ত সম্পদ দখলের নাটক

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিতে ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) নামে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় গড়ে ওঠে তাদের দুটি বড় কারখানা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর আইনত এসব পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। পিটিসি নিজেও করাচি থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ বুকে নিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তৎকালীন পিটিসির ফাইন্যান্স ম্যানেজার ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জামালুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট কৌশলে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ বহুজাতিক জায়ান্ট বিএটির দখলে পৌঁছে দেয়—যেখানে জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল মুখ্য অস্ত্র।

দুদকের কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়া

সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দপ্তরে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “নথিপত্র যাচাই শেষে যদি জালিয়াতির সত্যতা মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রভাব

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের জালিয়াতি ও পাচার শুধু সরকারি কোষাগারই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটিই হবে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের তথ্য ও আইনি সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেও অনুসন্ধান করা হবে। বর্তমানে তদন্তের প্রাথমিক ধাপে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

পরবর্তী করণীয়

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে দুদকের অনুসন্ধান শেষে যদি যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ফৌজদারি মামলা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এমন ঘটনায় সাধারণ পাঠক ও সুশীল সমাজের একাংশ বড় ধরনের আইনি নজির সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবার নজর এখন দুদকের তদন্তের দিকে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই বিপুল অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় কি না, সেটাই এখন সময়ের প্রশ্ন।

[atn_photocard]
আরও