×
×
Saturday, 31 October, 2026, 12:22 am


ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় সুযোগ: ৯% সুদে হোম ও কার লোন টেকওভার করছে ব্যাংক এশিয়া

দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গত কয়েক বছরে ব্যক্তিগত, আবাসন ও গাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে তুলনামূলক উচ্চ সুদের চাপের মুখে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের ওপরে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে তা ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক Bank Asia।

কম সুদে ঋণ স্থানান্তরের সুযোগ

ব্যাংকটি তাদের ভোক্তা ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় অন্যান্য ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ঋণ ৯ শতাংশ সুদে ‘টেকওভার’ বা স্থানান্তর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে নেওয়া এই ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এর ফলে যেসব গ্রাহক বর্তমানে ৯ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ পরিশোধ করছেন, তারা চাইলে এই সুবিধা গ্রহণ করে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ স্থানান্তর করতে পারবেন। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমে আসবে, যা গ্রাহকদের আর্থিক চাপ হ্রাসে সহায়ক হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

এই সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহী গ্রাহকদের ব্যাংকের যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত প্রক্রিয়ায় ঋণ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।

কেন ভোক্তা ঋণে গুরুত্ব

ব্যাংক এশিয়া এই খাতে জোর দিচ্ছে মূলত দুটি কারণে

ভোক্তা ঋণে খেলাপির হার তুলনামূলক কম

অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামানত থাকায় ঝুঁকি কম

এই বিবেচনায় ব্যাংকটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্প্রসারণ

ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা ইতোমধ্যেই দেশের অন্যতম বৃহৎ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যেখানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭২ লাখ। এই গ্রাহকদের জন্য স্বল্প সুদে আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ বাড়বে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইনের মতে, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের সুদের চাপ কমানোর পাশাপাশি তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আর্থিক অবস্থার অগ্রগতি

ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী—

২০২২ সালে আমানত ছিল ৩৩,৭৬৯ কোটি টাকা

২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১,৬৫৫ কোটি টাকা

২০২৫ সালে আমানত বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪৫,৬৪৮ কোটি টাকা

অর্থাৎ, এক বছরে আমানত বেড়েছে প্রায় ৩,৯৯৩ কোটি টাকা।

মুনাফা ও ঋণ পরিস্থিতি

২০২৩ সালে পরিচালন মুনাফা: ১,১৫৩ কোটি টাকা

২০২৪ সালে: ১,৭০৫ কোটি টাকা

২০২৫ সালে: ১,৯১৩ কোটি টাকা

তবে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, খেলাপি ঋণের হার ২০২৩ সালে ৬.৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১১.৪০ শতাংশে পৌঁছায়। মাঝামাঝি সময়ে তা ১৯ শতাংশে উঠলেও, বছরের শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

ব্যাংক এশিয়ার এই উদ্যোগ উচ্চ সুদের ঋণে থাকা গ্রাহকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কম সুদে ঋণ স্থানান্তরের মাধ্যমে গ্রাহকরা যেমন আর্থিক স্বস্তি পাবেন, তেমনি ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

[atn_photocard]
আরও