মুমিনের অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদার ৫৫ নং আয়াতটি মুমিনদের অভিভাবকত্ব বা বন্ধুত্বের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। আয়াতটির অর্থ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃত অভিভাবকত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। এই প্রতিবেদনে কুরআনের আলোকে “মুমিনের অভিভাবক” কে হতে পারেন, তা পর্যালোচনা করা হবে।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ
“তোমাদের অভিভাবক তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং সেইসব মুমিন যারা নামায কায়েম করে এবং রুকু অবস্থায় যাকাত দান করে।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৫৫)
১. অভিভাবকত্বের একচ্ছত্র অধিকার আল্লাহর
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ নিজেকে মুমিনদের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সূরা বাকারার ২৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ
“আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক; তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।” (সূরা আল-বাকারাহ, ২:৫৭)
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে মুমিনদের প্রকৃত অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ। তার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনই মুমিনের জন্য সর্বোত্তম।
কুরআনের অন্যান্য নির্দেশনা
১. মুমিনের জন্য একমাত্র অভিভাবক আল্লাহ
যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য অভিভাবক গ্রহণ করে, কুরআন তাদের সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে:
وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
“যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৫৬)
২. কাফির-মুশরিকদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ নিষিদ্ধ
কুরআন স্পষ্টভাবে মুমিনদের অন্য ধর্মাবলম্বীদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ
“হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের অভিভাবক। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৫১)
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদার ৫৫ নং আয়াত এবং এর আশেপাশের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে:
১. মুমিনের একমাত্র প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহ। তার নির্দেশ ও বিধানই সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত।
২. রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ আল্লাহ প্রদত্ত আদেশ, এবং তা মানা ঈমানের অংশ।
৩. কাফির-মুশরিকদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অতএব, একজন সত্যিকারের মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো শুধুমাত্র আল্লাহকে তাঁর রাসূল ও নির্দিষ্ট মুমিনদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করা এবং আল্লাহর প্রদত্ত অভিভাবকত্ব ব্যতীত অন্য কোনো কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা। আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ
“আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী।” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:৫৬)