×
×
Tuesday, 3 November, 2026, 3:02 pm


নামজারির নামে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, এক লাখ টাকাসহ দুদকের জালে সার্ভেয়ার

লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন।

রাজধানীর লালবাগে জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে এক সরকারি সার্ভেয়ারকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পরিকল্পিত ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

দুদকের ঢাকা-১ জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জমির সীমানা নির্ধারণের আবেদন, ছয় মাসেও মেলেনি সমাধান

দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম রাজধানীর লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজায় অবস্থিত ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেছিলেন।

ওই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় স্কেচ ম্যাপ তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

তবে আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রায় ছয় মাস অপেক্ষার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পেয়ে তিনি লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু সেখানেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে তাঁকে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কাজ সম্পন্নের বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করা এবং নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে মনিরুল ইসলামের কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন অভিযোগকারী। পরে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান এবং ঘুষ গ্রহণের সময় অভিযুক্ত সার্ভেয়ারকে হাতেনাতে আটকের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

পরিকল্পিত ফাঁদ অভিযান, এক লাখ টাকাসহ আটক

অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের ঢাকা-১ জেলা কার্যালয় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে। প্রাথমিক সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুদকের একটি বিশেষ দল লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

দুদকের অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কমিশনের চলমান কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

দুদকের অভিযানে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা-১ জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

সরকারি সেবা পেতে ঘুষের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে জনভোগান্তি

জমির সীমানা নির্ধারণ, খতিয়ান সংশোধন ও নামজারির মতো ভূমিসংক্রান্ত সেবা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সাধারণ জমির মালিকদের ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

লালবাগের এ ঘটনায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা গ্রহণের সময় একজন সরকারি সার্ভেয়ারকে আটকের বিষয়টি নতুন করে ভূমি প্রশাসনের সেবার মান ও দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা উদ্‌ঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ, হয়রানি কিংবা ঘুষের শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

[atn_photocard]
আরও