×
×
Thursday, 29 October, 2026, 9:07 am


জাপানের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

টোকিওতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় বলেছেন জাপানি মন্ত্রী।

টোকিওর কূটনৈতিক অঙ্গনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। চার দিনের সফরে জাপানে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে। বৈঠকে জাপানের মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান যে আগ্রহী, সেই বার্তাও তিনি দিয়েছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাপানের শিল্প ও বাণিজ্যনীতির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর মুখে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত।

বৈঠকে কী কী আলোচনা হলো

সাক্ষাৎকালে আকাজাওয়া রিয়োসেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করার ব্যাপারে জাপান সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে তাঁরা আন্তরিক।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাপান সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে সহযোগিতার যেসব খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেগুলো এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারেও দুই পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে।

জাপানি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কাজে লাগানোর তাগিদ

আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল বিনিয়োগ। বৈঠকে বলা হয়, জাপানের ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ আনতে হবে। সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিনিয়োগ সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সফরেই জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হয়েছে। জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উন্মুখ বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাছে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাপান বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (জেটরো) এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর ডাক দেন। এ ছাড়া জাপানি পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে।

পারিবারিক ঐতিহ্যের উল্লেখ

বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুজনেই দুইবার করে জাপান সফর করেছেন। তাঁদের সময় থেকেই বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বিকাশ ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, তিনি এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে চান।

এই প্রসঙ্গ আকস্মিক ছিল না। গত ১২ আগস্ট ঢাকায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরের সময় জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোইউকিও জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করেছিলেন। অর্থাৎ দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে উভয় পক্ষেরই স্পষ্ট সচেতনতা রয়েছে।

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

বৈঠকের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। কূটনৈতিক রীতিতে এ ধরনের আমন্ত্রণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি ইতিবাচক ধাপ হিসেবে দেখা হয়। মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হলে বিনিয়োগ প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল ও অবকাঠামো নিয়ে সরেজমিনে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী প্রতিনিধিদল। এতে ছিলেন:

– অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
– বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত
– প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
– পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির
– বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
– ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী
– বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান
– প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান
– প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন
– মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

প্রতিনিধিদলের গঠনই বলে দেয়, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল অর্থনীতি। অর্থ, বিমান পরিবহন, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ ব্যক্তিদের একসঙ্গে উপস্থিতি জাপানি পক্ষকে একটি সুসংগঠিত বার্তা দিয়েছে।

সফরের পটভূমি: কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরে রয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর হচ্ছে। তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ অক্টোবর ভোরের দিকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

সফরসূচি অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। একই সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য রাখার কর্মসূচি ছিল। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ উভয় দেশের সম্পর্কের ভিত্তি বলেও তারা উল্লেখ করে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চলমান প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে এই সফরে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সফরে বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টাও চলছিল। সফরে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচির কথাও আগে জানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও জাপান: পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর যে দেশগুলো দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের অন্যতম। ১৯৭২ সালের শুরুতেই দেশটি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন সহায়তা ও বাণিজ্যের পথে এগিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সম্প্রতি বলেছেন, জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের শিকড় মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অবদান বহুমুখী। দেশের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর কয়েকটিতে জাপানি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও এর সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম। বঙ্গোপসাগরীয় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ধারণা বা বিগ-বি উদ্যোগেও জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

শুধু সরকারি উন্নয়ন সহায়তা নয়, বেসরকারি খাতেও জাপানি উপস্থিতি বাড়ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ইউনিক্লোর মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের যোগসূত্র সেই সম্পর্কেরই একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

ইপিএ: সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

এই সফরের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। এ ধরনের চুক্তিতে সাধারণত শুল্ক হ্রাস, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয় থাকে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে। এই বাস্তবতায় রপ্তানি বাজার ধরে রাখা ও নতুন বাজার খোঁজার জন্য জাপানের সঙ্গে এমন চুক্তি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কেবল চুক্তি স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়। এর সুফল পেতে হলে বন্দর সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব নিয়ম নিশ্চিত করা জরুরি। জাপানি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করেন। আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে বৈঠকে আলোচিত “আগ্রহকে কাজে লাগানো”র বিষয়টি তাই মূলত বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত।

অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয় দেশটির শিল্পনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, জ্বালানি নীতি ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কেন্দ্রীয় সংস্থা। জাপানি কোম্পানিগুলো কোন দেশে বিনিয়োগ করবে, সেই সিদ্ধান্তে এই মন্ত্রণালয়ের নীতি ও পরামর্শ বড় প্রভাব ফেলে। জেটরোর মতো সংস্থাও এই কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান যখন প্রকাশ্যে বলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়, তখন তা জাপানি ব্যবসায়ী মহলের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের জন্য এর সম্ভাব্য সুফল বহুমুখী:

কর্মসংস্থান: শিল্পকারখানা ও সেবা খাতে নতুন বিনিয়োগ এলে তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়ে।

প্রযুক্তি হস্তান্তর: জাপানি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বে উৎপাদন দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি আসে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ: পোশাকের বাইরে বৈচিত্র্যময় পণ্যে সক্ষমতা তৈরির সুযোগ মেলে।

জ্বালানি ও অবকাঠামো: দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে।

দক্ষ জনশক্তি ও মানবসম্পদ সহযোগিতা

বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতার আরেকটি উদীয়মান ক্ষেত্র হলো দক্ষ জনশক্তি। জাপান বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা ও শ্রমিক সংকটের মুখে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সফরের আগে জানা গিয়েছিল, দুই দেশ জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। ভাষা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা গেলে এই সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।

সামনের পথ

আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তাই একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক চিত্রের অংশ। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপ, জেটরোর সঙ্গে আলোচনা এবং অর্থনৈতিক ফোরাম, সব মিলিয়ে এই সফরের মূল সুর ছিল বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব।

এখন প্রশ্ন হলো, আলোচনার এই গতি বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেবে কি না। সমঝোতা স্মারক সই, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি এবং ইপিএর সুফল ঘরে তোলার সক্ষমতার ওপর এর উত্তর নির্ভর করবে। জাপানি মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্য আমন্ত্রণ সেই পথে একটি কার্যকর পরবর্তী ধাপ হতে পারে।

দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস বলে, বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত। এবার সেই ভিত্তির ওপর টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

[atn_photocard]
আরও