৫১ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে কলেরার টিকা: শুরু হলো জাতীয় ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন
ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ উপজেলা-থানায় দুই ডোজে সম্পন্ন হবে সুরক্ষা কর্মসূচি, সচেতনতাই বড় দায়িত্ব
কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এক বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শিরোনামে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
যেভাবে শুরু হলো কর্মসূচি
গত ২০ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এরপর ২২ আগস্ট শনিবার থেকে দেশের নির্ধারিত এলাকায় বাস্তবে শুরু হয় টিকাদান কার্যক্রম।
কোথায় ও কাদের জন্য এই টিকা
এই কর্মসূচি সারা দেশের জন্য সর্বজনীন নয়—বরং কলেরার ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট এলাকাকে টার্গেট করে সাজানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ মোট ৬টি জেলার ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন, তবে গর্ভবতী নারীদের এই কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
দুই ডোজের সময়সূচি
সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়:
* প্রথম ডোজ: ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
* দ্বিতীয় ডোজ: ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত
উভয় ডোজ গ্রহণ করলেই কেবল টিকার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু টিকা নয়, চাই সামগ্রিক সচেতনতা
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কলেরা প্রতিরোধে কেবল টিকাদানই যথেষ্ট নয়। নিরাপদ পানির সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলা আসলে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য-সচেতনতার পরিচায়ক।
নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে টিকা গ্রহণ
কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বা জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায়। এই বাস্তবতায় নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ করা শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বও বটে। একজন ব্যক্তি টিকা নিলে তা আশপাশের মানুষদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।
সংক্ষেপে কর্মসূচির চিত্র
বিষয় ও তথ্য
✅ক্যাম্পেইনের নাম- প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬
✅লক্ষ্যমাত্রা- প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ
✅এলাকা- ৬ জেলার ১৪টি উপজেলা/থানা
✅প্রথম ডোজ- ২২ আগস্ট – ২১ সেপ্টেম্বর
✅দ্বিতীয় ডোজ- ২৬ সেপ্টেম্বর – ২৫ অক্টোবর
✅যোগ্যতা- ১ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সব নাগরিক
✅ ব্যতিক্রম- গর্ভবতী নারী
✅খরচ- সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
কলেরার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারের এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের উচিত নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দুই ডোজ টিকাই গ্রহণ করা এবং পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামষ্টিক অংশগ্রহণই পারে এই কর্মসূচিকে সার্বিকভাবে সফল করে তুলতে।